শরীয়তপুরের ধানুকায় গৃহবধূ সামছুন্নাহার তানুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার দুপুরে জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আব্দুস ছালাম খান এ রায় দেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রেজাউল করিম সুজন (২৪), সাইফুল পেদা (২২) ও দুলাল মাদবর (২২)।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট রবিবার বিকেলে দক্ষিণ বালুচড়া গ্রামের ইছাহাক মোল্লার স্ত্রী সামছুন্নাহার তানু প্রাইভেট পড়তে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। এ সময় সাইফুল ও দুলালের সহযোগিতায় তানুকে ডেকে নিয়ে সারা রাত আটকে রেখে ধর্ষণ করে সুজন। পরের দিন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ধানুকা গ্রামের এক নির্জন বাগানে নিয়ে তিনজনে মিলে তানুকে হত্যার পর ডোবার মধ্য লুকিয়ে রাখে। এদিকে তানুকে না পেয়ে তার পরিবার থানায় জিডি করলে পুলিশ মোবাইল ফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে প্রথমে সুজনকে আটক করে। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘটনার পাঁচ দিন পর ২২ আগস্ট ডোবা থেকে তানুর মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাইফুল ও দুলালকে আটক করে।
এ ঘটনায় তানুর ভাসুর আবুল কাশেম মোল্যা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে পালং থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সদর উপজেলার মধ্য চরসন্ধি গ্রামের আব্দুল কাদের তালুকদারের ছেলে রেজাউল করিম সুজন, মজিবুর রহমান পেদার ছেলে সাইফুল পেদা ও আব্দুল মান্নান মাদবরের ছেলে দুলাল মাদবরের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। দীর্ঘ চার বছর মামলার কার্যক্রম শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্ত তিনজনকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দেন।
মামলার বাদী আবুল কাশেম মোল্যা বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। তবে মূল অপরাধী সুজন জামিনে বের হয়ে পলাতক আছে। তাকে গ্রেফতার করে দ্রুত সাজা কার্যকর করলে তানুর আত্মা শান্তি পাবে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহ আলম বলেন, ‘আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। এর বেশি এখন কিছু বলা যাচ্ছে না।








