জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র তিনদিন বাকী থাকলেও এখনো রংপুর সদর-৩ আসনে প্রচার-প্রচারণা তেমন জমে উঠেনি। প্রার্থীদের মাঝেও তেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে না। বিশেষ করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী রিটা রহমান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করলেও নেতাকর্মী সঙ্কটের কারণে তার প্রচারণা ঝিমিয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা কয়েকদিন তার সঙ্গে মাঠে থাকলেও দুদিন ধরে তিনি নিজেই প্রচারণা চালাচ্ছেন।
বুধবার সকালে তাকে নগরীর নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়া ও উত্তর মুন্সিপাড়াসহ আশেপাশের এলাকায় গণসংযোগ করতে দেখা গেলেও তার সঙ্গে ছয় সহকর্মী ছাড়া আর কাউকে দেখা যায়নি। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন না বিএনপির কোনও নেতাকর্মী। একজনকে হ্যান্ড মাইক নিয়ে ধানের শীষের কথা বলতে দেখা গেলেও প্রার্থী রিটা রহমানের সঙ্গে থাকা ৪/৫ জনকে পেছনে হাঁটতে দেখা গেল। বিভিন্ন জায়গায় রিটা রহমান নিজেই ধানের শীষের লিফলেট বিলি করতে করতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।
কেন বিএনপি নেতা কর্মীরা রিটা রহমানের পাশে নেই এ ব্যাপারে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমদিকে রিটা রহমানকে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা দেওয়া হলেও এর প্রতিবাদে বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে। এ ঘটনার পর কেন্দ্রের হস্তক্ষেপে অবশেষে রিটা রহমান নিজেই মহানগর বিএনপির নেতাদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের মান ভাঙানোর চেষ্টা করে সফল হন। পরে বিএনপি মহানগর সভাপতি মোজাফফর হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। এর পর শত শত নেতাকর্মীকে নিয়ে শোডাউন করে নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করেন রিটা রহমান। কিন্তু বিপত্তি দেখা দেয় রংপুর ৩ আসনের বিশাল এলাকায় গণসংযোগ করতে গিয়ে।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতা জানান, তিনি নেতাকর্মীদের যাতায়াত ও মুভম্যান্ট করার জন্য এবং মাইকে প্রচারণা চালানোর নুন্যতম খরচ পর্যন্ত তিনি দিতে গড়িমসি করেন। নেতাকর্মীরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কয়েকদিন নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর পর প্রার্থীর দিক থেকে কোনও সাড়া না পাওয়ায় তারা প্রচারণায় যোগ দিচ্ছেন না ।
সার্বিক বিষয়ে জানতে মহানগর বিএনপির সাধারন সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে রিটা রহমানের গণসংযোগে কর্মীদের উপস্থিতি কম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা বিপদে আছি।’ এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
অপরদিকে দুপুর দেড়টার দিকে প্রার্থী রিটা রহমানের মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করা হলেও তিনি রিসভি করেননি।







