কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা হয়েছে। ওই শিক্ষক গ্রেফতার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছেন। তবে শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার স্ত্রীর অভিযোগ, ওই শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়তে আসতে নিষেধ করায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে চিলমারী উপজেলাধীন থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক জিয়ার কাছে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী কয়েকজন বান্ধবীসহ ওই বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে গণিত বিষয়ের সাপ্তাহিক পরীক্ষা দিতে যায়। পরীক্ষা শেষে শিক্ষক জিয়া ওই শিক্ষার্থীকে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ক্লাসরুমে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। পরে মেয়ের বাবা এ বিষয়ে চিলমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।
এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, শিক্ষক জিয়া তাকে যৌন হয়রানির চেষ্টা করেছেন। এজন্য সে ওই শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছে।
তবে শিক্ষক জিয়ার স্ত্রী আছমা খাতুনের দাবি, ওই শিক্ষার্থী তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মিথ্যা অভিযোগ তুলেছেন।
জিয়ার স্ত্রীর আছমা খাতুন জানান, ‘তার স্বামী জিয়া ২০০৬ সাল থেকে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। উপজেলা প্রশাসনের ডাকবাংলো সংলগ্ন একটি জায়গায় চালাঘরে প্রাইভেট পড়ান তিনি। এছাড়া প্রতি শুক্রবার থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে সব ব্যাচের (অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণির) সাপ্তাহিক পরীক্ষা নেন।’
জিয়াউর রহমানের বরাত দিয়ে তার স্ত্রী জানান, ‘মূলত তার স্বামীর সঙ্গে ওই শিক্ষার্থীর বাবার বন্ধুত্বের সম্পর্ক। তাই তার অনুরোধে জিয়া ওই শিক্ষার্থীকে অষ্টম শ্রেণির সকাল ৭টার ব্যাচে প্রাইভেট পড়াতে নেন। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই ব্যাচের কয়েকজন পড়তে আপত্তি জানালে তাকে সকাল ৮টার ব্যাচে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সে ব্যাচেরও কয়েকজন ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে পড়তে আপত্তি জানায়। এ কারণে ঘটনার দিন (১ ফেব্রুয়ারি) সাপ্তাহিক পরীক্ষা শেষে জিয়া ওই শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বারান্দায় ডেকে নিয়ে যায়।’ পরে ব্যাচের অন্য মেয়েদের আপত্তির বিষয়টি জানায় এবং তাকে প্রাইভেট পড়তে আসতে নিষেধ করা হয়। এ ব্যাপারে শিক্ষক জিয়া নিজে ওই শিক্ষার্থীর বাবার সঙ্গে কথা বলে নেবেন বলেও জানান।
শিক্ষক জিয়ার স্ত্রী আরও জানান, প্রাইভেট পড়তে আসতে নিষেধ করার কথা সবার সামনে বললে ওই শিক্ষার্থী অপমানবোধ করতো, সেজন্য জিয়া তাকে একা ডেকে নিয়ে বিষয়টি জানান। নিজের দোষ ঢাকতেই ওই শিক্ষার্থী তার স্বামীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহা বলেন, ‘আমার মনে হয় ঘটনাটি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এতে ওই শিক্ষকের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। এজন্য আমি বিষয়টি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চিলমারী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শরিফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছি। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে সে অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’







