রাজধানীর ধানমন্ডির অফিসার্স কোয়াটারের একটি বাসা থেকে সাহেরা খাতুন (২৭) নামে বাকপ্রতিবন্ধী এক গৃহকর্মী দেড় মাস আগে নিখোঁজ হয়। তাকে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার উত্তর সাথুলিয়া গ্রামে। বাবার নাম বাবলু মিয়া। নিখোঁজ মেয়ের সন্ধান না পেয়ে দিশেহারা বাবা-মা।
স্বজনরা জানান, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে প্রভাতি-৯, ধানমন্ডি৭ নম্বর রোডের সরকারি অফিসার্স কোয়ার্টারের এলজিইডি’র প্রকৌশলী জহরুল আলম মণ্ডল ও ঢাকা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রাফিজা বেগমের বাসা থেকে নিখোঁজ হয় সাহেরা। গত দুই বছর ধরে সাহেরা ওই বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতো। এ ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় ১৮ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ৪৯১) করা হয়।
নিখোঁজ সাহেরার মা শুকনি বেগম বলেন, ‘সংসারে অভাব-অনাটনের কারণে দুই বছর আগে ঢাকায় রাফিজা বেগমের বাসায় কাজের জন্য মেয়েকে পাঠায়। মোবাইল ফোনে প্রায়ই মেয়ের খোঁজ নিতাম। কিন্তু হঠাৎ করে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তাকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয়-স্বজনের বাসাসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও পাওয়া যাচ্ছে না তাকে।’ তার ধারণা, বাসার মালিক মেয়ের প্রতি দুর্ব্যহার বা নির্যাতন করায়, সে বাসা থেকে পালিয়েছে। মেয়েকে দ্রুত খুঁজে পেতে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সাহেরার বাবা বাবলু মিয়ার অভিযোগ, ‘মেয়ে নিখোঁজের খবর পেয়ে স্ত্রীসহ কয়েকজনকে নিয়ে ঢাকায় রাফিজা বেগমের বাসায় যায়। এ সময় রাফিজা বেগম তাদের ঘরে বসতেও দেয়নি। আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে, সাহেরা নিখোঁজের ঘটনায় থানায় জিডি, এলাকায় মাইকিং করার কথা জানান। পরে থানায় গিয়ে মেয়ের নিখোঁজের জিডির কপি সংগ্রহ করি। তার দাবি, সাহেরা নিখোঁজ হয়নি, রাফিজা বেগম ও তার স্বামী মিলে তাকে বিদেশে পাচার করতে দালালের হাতে বিক্রি কিংবা অসৎ উদ্দেশ্যে গুম করে রেখেছে। মেয়ের সন্ধানে তাদের কোনও সহযোগিতাও পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ বাবলুর।’
অভিযোগের বিষয়ে গৃহকর্ত্রী ঢাকা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রাফিজা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুঠফোনে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজের আগে বাসার অন্য মেয়ের সঙ্গে মারামারি করে সাহেরা। এরপর কাউকে কিছু না বলে বাসা থেকে চলে যায়। পরে নিখোঁজের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এলাকায় মাইকিংসহ অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাওয়া যায়নি।’ তিনি সাহেরাকে পাচার ও বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং ওই দিন সাহেরার বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসি টিভি ক্যামেরা ফুটেজে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এদিকে, দরিদ্র পরিবারটি মেয়েকে না পেয়ে এখন দিশেহারা। তাকে খুঁজে পেতে কী করবে তাও বুঝে উঠতে পারছে না। মেয়েকে হারানোর বেদনায় শুধু চোখের পানি ফেলে চলেছেন অসহায় বাবা-মা।
২৭ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী সাহেরার উচ্চতা পাঁচ ফুট দুই ইঞ্চি। গায়ের রং উজ্জ্বল শ্যামলা ও শুকনা শারীরিক গঠন, মুখে ব্রোনের দাগ আছে। কেউ তার খোঁজ পেলে ধানমন্ডি থানা অথবা ০১৭১৫০২১৫৭০, ০১৭৫৪৮৫৫১৭৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।







