শস্যভাণ্ডার খ্যাত দিনাজপুরের হিলিতে রোপা আমন ধানের ফুল আসার সময় হঠাৎ বৃষ্টিপাতে উৎপাদন কমে গেছে। অপরদিকে ধানের দামও আশানুরূপ না পাওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। বেশি বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বর্গা চাষিরা। লোকসান থেকে মুক্তি পেতে সরাসরি কৃষকদের থেকে সরকারিভাবে ধান কেনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
হিলির দক্ষিণপাড়া গ্রামের কৃষক জাহাঙ্গির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, একবিঘা জমিতে ধান লাগানোর জন্য প্রথমেই বীজতলা তৈরিতে খরচ হয় ২০০ টাকার মতো, এরপর জমি প্রস্তুত করতে খরচ হয় ৯০০ টাকা, সেই জমিতে ধান রোপন করতে খরচ ৯০০ টাকা, এরপর সার ও ওষুধ বাবদ ১৬০০ টাকা, আগাছা পরিষ্কার করতে ১২০০, ধান কাটা বাবদ ২৫০০ ও মাড়াই বাবদ খরচ হয় ৩০০ টাকা। অন্যান্য ব্যায় মিলিয়ে একবিঘা জমিতে ধান রোপন থেকে শুরু করে মাড়াই পর্যন্ত কৃষকের খরচ হয় ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। অন্যদিকে ধান বিক্রি করে কৃষক পাচ্ছেন ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা। যে কারণে প্রতিবছর ধান আবাদ করে শুধু লোকসানের বোঝাই বাড়ছে।
হিলির ছাতনি গ্রামের কৃষক মোজাম্মেল হক ও টুডু সরেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এবার ধানের ফুল আসার সময় হঠাৎ করে বৃষ্টি হয়। এ কারণে ফলন অনেক কম হয়েছে। গতবছর বিঘা প্রতি ১৮ থেকে ১৯ মণ করে ধান পাওয়া গেলেও এ বছর তা কমে ১৩ থেকে ১৪ মণে নেমে এসেছে। এরপরেও ধানের সঠিক দাম পেলে লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যেতো। বর্তমানে প্রতিমণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে প্রকারভেদে সাড়ে ৫৯০ থেকে সাড়ে ৬০০ টাকা দরে, তারপরেও কেউ ধান নিতে চাচ্ছেন না। এতে করে ধান আবাদ করতে যে উৎপাদন খরচ হয়েছে সেই টাকাই উঠছে না।
তারা দাবি জানান সরকার যে ১০৪০ টাকা মূল্য দিয়েছে, সেক্ষেত্রে কৃষকরা সাড়ে ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা দাম পেলে খরচ উঠিয়ে আনা সম্ভব হবে।
হিলির ছাতনি চারমাথার ধানের আড়ৎদার শাহ মুহাম্মদ সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বর্তমানে স্বর্না-৫ জাতের ধান ৬৪০ থেকে ৬৫০, গুটি ধান ৫৯০ থেকে ৬০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা চলছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পার্টি ও মিলারদের কাছে ধানের চাহিদা থাকার কারণে কিছুদিন আগে ধানের দাম বাড়তি ছিল, তবে সে সময় ৭১০ থেকে ৭১৫ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হয়েছে। বর্তমানে মিলাররা ধান না কেনায় ধানের কোন চাহিদা নেই, যার কারণে ধানের দাম কমতির দিকে রয়েছে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, চলতি রোপা আমন মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলায় ৮ হাজার ২০৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ৮ হাজার ২১০ হেক্টর জমিতে। এবছর ফসলে তেমন রোগ ও পোকামাকড়ের উপদ্রুপ ছিল না। কিছু কিছু এলাকায় ধানের ফুল আসার আগে বৃষ্টি হওয়ায় ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তবে সার্বিকভাবে ধানের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানান তিনি।







