পৌষের শুরুতেই হিলিতে জেঁকে বসেছে শীত। ঘনকুয়াশা আর হিমেল বাতাস শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবন। শীত থেকে বাঁচতে সবাই ছুটছেন গরম কাপড়ের দোকানে। বিত্তবানরা ছুটছেন শহরের বড় বিপণি বিতানগুলোয়। আর খেটে খাওয়া লোকজন ছুটছেন ফুটপাতের দোকানগুলোয়।
হিলি বাজার, স্থলবন্দরের গেট, চারমাথাসহ বিভিন্ন শোরুম, দোকান ও ফুটপাতে বসা গরম কাপড়ের দোকানগুলোয় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে হাত-পা মোজা, টুপি ব্যবসায়ীদের দেখা গেছে। হিলি সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে ভারতীয় জ্যাকেট, চাদর, কম্বলসহ শীতের পোশাক পাওয়া যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ আসছেন এসব কিনতে।
গরম কাপড় কিনতে আসা নাসিমা বেগম বলেন, ‘তিন-চার দিন ধরে খুব ঠান্ডা পড়ছে। মেয়ের জন্য একটা জ্যাকেট কিনলাম। দোকানদার জ্যাকেটের দাম চেয়েছিলেন ১৮০০ টাকা। দামাদামি করে দেড় হাজার টাকায় কিনেছি। পরে আমার ও ছেলের জন্যও জ্যাকেট নিয়েছি।’
হিলি স্থলবন্দরের সামনের ফুটপাতে ছেলের জন্য গরম কাপড় কিনতে এসেছেন ভ্যানচালক মাহবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর ঠান্ডা পড়ছে। ছেলের জ্যাকেট কেনার জন্য এসেছি। আমাদের তো আয় কম। তারওপর শীতের জন্য লোকজন বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় আয় অর্ধেকে নেমে এসেছে। ফলে ইচ্ছে থাকলেও ভালো কাপড় কেনার সামর্থ নেই। তাই ফুটপাতে কিনতে এসেছি। এখান থেকে ছেলের জন্য ২৫০ টাকায় একটা জ্যাকেট কিনেছি। আর নিজের জন্য একটি সোয়েটার কিনলাম।’
ফুটপাতে পোশাক বিক্রেতা মাসুদ রানা বলেন, ‘আমাদের দোকানের ক্রেতারা সব খেটে খাওয়া দিনমজুর শ্রেণির মানুষ। তাদের কথা মাথায় রেখে খানিকটা কম দামের পোশাক আমরা নিয়ে আসি এবং তা বিক্রি করি। গত চার পাঁচদিন ধরে প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা পড়ায় ক্রেতাদের ভিড় বাড়ছে। সবাই সাধ্যমতো পছন্দের জিনিস কিনছেন।’
হিলি বাজারের পোশাক বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে হিলিতেও শীতের প্রকোপ বাড়ায় শীতের পোশাক বেচাকেনা শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বাচ্চাদের টুপি, সোয়েটার, জ্যাকেট। আর বড়দের সোয়েটার, জ্যাকেট, চাদর।’
হিলি বাজারের ঘুড়ি কাপড়ের দোকানের মালিক সালাহউদ্দিন বকুল বলেন, ‘হিলিতে বেশ কিছু কাপড়ের দোকান রয়েছে। এসব দোকানগুলোতে দেশি বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডসহ বিভিন্ন দামের নানান ধরনের শীতের পোশাক রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বাজারের সব দোকানেই গরম কাপড় কিনতে মানুষ ভিড় করছেন। বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে। লাভের মুখ দেখবেন ব্যবসায়ীরা।’
আরও পড়ুন:
সর্বনিম্ন তাপমাত্রা যশোরে, কমে আসছে শীতের দাপট







