ব্রিটিশ আমলে নীল চাষ এবং নীল চাষিদের বিদ্রোহের কারণেই নীলফামারী জেলার নামকরণ। সেই সময়ে ইংরেজদের বানানো নীল কুঠি মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ভাঙা শুরু করে পুলিশ। পরে স্থানীয়দের বাধার মুখে বন্ধ হয় ভাঙার কাজ। পুলিশ জানায়, তারা সেখান থেকে ইট নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। দুপুরে সরেজমিন দেখা যায়, স্থাপনাটির পূর্বের অংশের প্রায় তিন শতাধিক ইট খুলে ফেলা হয়েছে।
ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমতাজ আলী প্রামাণিক বলেন, ‘১৮০০ সালে ব্রিটিশ আমলে নীল চাষের ওই নিদর্শনটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সংরক্ষণের কাজ শুরু করে। সেটি হঠাৎ করে কে বা কারা ভাঙছে শুনে এলাকার লোকজন ক্ষুব্ধ হয়। আমি ঘটনাস্থলে এসে ভাঙার কাজ বন্ধ করাই।’
স্থাপনাটি ভাঙার কাজে নিয়োজিত শ্রমিক টুপামারী ইউনিয়নের দোগাছি গ্রামের আমিনুর রহমান ও আক্কাছ আলী বলেন, ‘আমরা কয়েকদিন ধরে স্থানীয় পুলিশের নির্দেশে পুলিশ লাইনের ভেতরে কাজ করছিলাম। আজ হঠাৎ আমাদের নীলকুঠি ভবনটি ভাঙার জন্য পাঠানো হয়।’
বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, ‘জমিটি ছিল জেলা পুলিশের। সেখানে মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের প্রস্তাবনায় ওই স্থাপনাসহ জমিটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান আছে। ধারণা ছিল স্বাস্থ্য বিভাগ সেটি ভেঙে ফেলবে। ওই ধারণা থেকে পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির একটি শোরুম নির্মাণে ইটের জন্য সেখানে শ্রমিকদের পাঠানো হয়। স্থাপনাটি যে পুরাকীর্তি সে বিষয়ে আমাদের জানা ছিল না। জানার পর ভাঙার কাজ বন্ধ করা হয়েছে।’
স্থানীয় অনিল চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৮০০ সালে নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের নটখানায় নীল চাষের একটি বড় খামার ছিল। ১৮৪৭-৪৮ সালে নীল চাষে লোকসান হওয়ায় কৃষকরা মুখ ফিরিয়ে নেয়। এতে কৃষকদের ওপর নির্যাতন করে ব্রিটিশরা। ১৮৫৯-৬০ সালে কৃষকদের ব্যাপক আন্দোলনের ফলে নীল চাষ পুরোপুরি বন্ধ হয়। তখন আন্দোলনের মুখে নীলকররা পালিয়ে যায়। সেই নীল খামার থেকে নীলফামারী নাম। ওই বিল্ডিংটি ব্যবহার হতো অবাধ্য কৃষকদের টর্চার সেল হিসেবে। ওই টর্চার সেলের পাশে একাধিক নীল খামারও ছিল।’








