বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষে শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে গণশুনানি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে বন্দরের আমদানি-রফতানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ী, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ, বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস ও স্থানীয় প্রশাসনকে নিয়ে এক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজনে হিলি স্থলবন্দর পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের আয়োজনে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় পোর্টের নিজস্ব সভাকক্ষে দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের পক্ষে গণশুনানি গ্রহণ করেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অডিট) আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান।
এ সময় সেখানে হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ হারুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম, হিলি কাস্টমসের সহকারী কমিশনার আব্দুল হান্নান, হিলিপোর্টের নির্বাহী পরিচালক মনজুর রহমান, পরিচালক অনন্ত কুমার চক্রবর্তী, প্রিন্স চৌধুরী, হাকিমপুর সার্কেল এএসপি আখিউল ইসলামসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
গণশুনানিতে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রেজাউল ইসলাম, আব্দুল আজিজ, আব্দুর রহমান লিটন, শাহিনুর রেজা শাহীন ও হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, বন্দরের রাস্তাঘাটগুলো সংকীর্ণ হওয়ায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এটি নিরসনে সড়ক প্রশস্তকরণের দাবি জানান তারা। এছাড়া ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে বের হতে আরও গেট স্থাপন, বন্দরের ভেতরে ব্যাংকের বুথ স্থাপন, ওজন স্টেশন বাড়ানো, ভারী যন্ত্রপাতি লোড-আনলোডে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনসহ বন্দরের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরা হয় গণশুনানিতে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (অডিট) আবুল ফয়েজ মো. আলাউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা আজ উন্নয়নের যে মহাসড়কে গিয়েছি তারই একটি ক্ষুদ্র অংশ হলো হিলি স্থলবন্দর। বাংলাদেশ মূলত আমদানি নির্ভর। অনেক ক্ষেত্রে ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে সবকিছু আমদানি হয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক রেখে যেসব বাধা-বিপত্তি রয়েছে সেগুলো অতিক্রম করে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। যাতে করে দু’দেশের মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য সম্পৃক্ত ভালো করতে পারি এবং আমদানি-রফতানির গুণগত পরিবেশ ও মানরক্ষা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সেই কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা বাস্তবায়নে হিলি স্থলবন্দরের কার্যক্রম কতটুকু এগিয়ে যেতে পারলো, কী সমস্যা আমাদের সামনে এখনও রয়েছে, কী সমস্যাগুলো আমাদের সমাধানের প্রয়োজন সেই সমস্যাগুলো সমাধান আমরা কীভাবে করতে পারি মূলত এ লক্ষ্যেই আজকের এই গণশুনানি। যে ধরনের কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে সেগুলো সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা পরিচালনায় শুদ্ধাচার কৌশল বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।’







