কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অধীন উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর কার্যালয়ে রাজস্ব আদায় একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। অস্বাভাবিক রাজস্ব আয় কমে যাওয়ায় স্থানীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উদ্বিগ্ন। তবে তাদের দাবি, দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষিজ পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে আমদানি কমে গেছে। যে কারণে রাজস্ব আদায়ও তলানিতে।
ভারত ও ভুটান থেকে কৃষিজ পণ্য আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের আমদানিকৃত কৃষিজ পণ্যের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে রাজস্ব আদায় করে আসছে বুড়িমারী স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র। এরমধ্যে ভারত ও ভুটান থেকে আমদানি করা কমলা, আপেল, মসল্লা, পাটবীজ, সবজি বীজ, ভুট্টা বীজ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রত্যয়নপত্র দিয়ে থাকে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র। তবে বাংলাদেশ থেকে ভারত ও ভুটানে কোনো কৃষিজ পণ্য রফতানি হয় না। বুড়িমারী স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের রোগ তত্ত্ববিদ কর্মকর্তা শামীম আহমদ সরকার জানান, ভারত ও ভুটান থেকে আমদানি করা পণ্যের ‘রোগ ও পোকামুক্ত’ প্রত্যয়নপত্র দিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৩৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৫৯৮ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ১৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৩৪০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। চলতি অর্থ বছরের গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মাত্র ৩ লাখ ৩২ হাজার ২৫০ টাকা রাজস্ব আদায় আয় হয়েছে।
পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের তুলনায় ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে ২২ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৫৮ টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। গত অর্থ বছরের ধাক্কা আরও বেশি আঘাত হেনেছে ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর ব্যবহারকারী আমদানিকারক ব্যবসায়ী মেসার্স সোনা বিবি এন্টারপ্রাইজ স্বত্বাধিকারী হারুন-উর-রশীদ বলেন, ‘একসময় এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে কৃষিজ পণ্য ভারত ও ভুটান থেকে আমদানি করা হতো। কিন্তু সেই অবস্থা এখন নেই। বর্তমানে কিছু পাটবীজ, সবজিবীজ, এলাচ জাতীয় মসল্লা ও কমলা আমদানি হয়। এক সময় চাল ও ভুট্টা প্রচুর আমদানি হতো। গত বছর ভারতেই ভুট্টার দাম বেশি হওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি ভুট্টা রফতানি হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষিজ পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি চাহিদা কমেছে। ফলে উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের রাজস্ব আদায় কমেছে।’
বুড়িমারী স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভারত ও ভুটান থেকে কৃষিজ পণ্য এই স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি কমেছে। আগে সয়াবিন, সরিষা ও চালের ভূষি আমদানি হতো। এখন সেগুলোর সাথে ভুট্টা ও চাল আমদানিও বন্ধ রয়েছে। এরমধ্যে কমলা আমদানিও কমেছে। তাছাড়া এখন পাট, ধনেপাতা, সবজি বীজের পাশাপাশি এলাচ আমদানি হচ্ছে। এগুলোও খুবই অল্প পরিমাণে। ফলে রাজস্ব আদায় কমেছে।’








