করোনা ভাইরাস সন্দেহে চীন ফেরত আরেক শিক্ষার্থীকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বমি ও শরীর ব্যথা নিয়ে তাকে রমেকে ভর্তি করা হয়।
চীন ফেরত ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নে। তিনি চীনের ইয়াংজু বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।
এর আগে গত শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) চীনফেরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জ্বর ও শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তার বাড়ি নীলফামারী জেলায়। তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তার শরীরে এখনও কোনও করোনা ভাইরাসের লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে ১২ সদস্যের গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড জানিয়েছে।
কাকিনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু এসব তথ্য জানান। তিনি জানান, রবিবার ইউএস বাংলার একটি বিমানে ওই শিক্ষার্থী দেশে ফেরেন। ওইদিনই রাতে বমি ও শরীর ব্যথা নিয়ে তিনি রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জিয়াউল হাসান বলেন, ‘চীন ফেরত ওই শিক্ষার্থী শরীরে ব্যথা ও বমি ভাব নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে আমি জেনেছি। তিনি আমাদের হাসপাতালে আসেননি।’
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. দেবেন্দ্র নাথ সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ওই শিক্ষার্থীর কফ, লালা ও রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঢাকার রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) থেকে পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।’
ডা. দেবেন্দ্র নাথ সরকার আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দেশে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কোনও রোগী পাওয়া যায়নি। আমাদের আইসোলেটেড কেয়ার সেন্টার খোলা হয়েছে। আমরাও চিকিৎসা প্রদানে মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি।’
লালমনিরহাট সিভিল সার্জন ডা. কাসেম আলী বলেন, ‘রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি হওয়া চীন ফেরত শিক্ষার্থীর বিষয়ে আমরা বিশেষ খোঁজখবর রাখছি। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রত্যোক হাসপাতালে আইসোলেটেড কেয়ার সেন্টার খোলা হয়েছে।’







