গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নকে অপসারণ করা হয়েছে। অনিয়ম ও অর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণের আদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পরিষদের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট জারির আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আবু জাফর রিপন স্বাক্ষরিত এক আদেশে (প্রজ্ঞাপন) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নের বিরুদ্ধে ট্যাক্সের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, সদস্যদের অনুপস্থিতিতে রাতে বিচারকার্য পরিচালনা, স্বাক্ষর জালিয়াতি করে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন, মসজিদ সংস্কারের নামে অর্থ আত্মসাৎ, সেইসঙ্গে প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায়ের অভিযোগ সরেজমিন তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।
এছাড়া পরিষদের সদস্যদের অনাস্থা ভোট পড়েছে তার বিরুদ্ধে। গোপন ব্যালটে মোট ৯ জন সদস্যের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোট তার বিপক্ষে পড়ে।
এ কারণে জনস্বার্থে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন-২০০৯ এর ৩৯ (১৩) ধারা অনুযায়ী, তার দায়িত্বপালন সমীচীন হবে না মর্মে অনাস্থা প্রস্তাবনাটি অনুমোদিত হয় এবং নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এছাড়া প্রজ্ঞাপনে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা করে বিজ্ঞপ্তি জারির নির্দেশ দিয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) চিঠি পাঠানোর কথাও উল্লেখ করা হয়।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়ন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, মেম্বারদের অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। স্থানীয় তদন্তে তাদের অভিযোগের সত্যতাও মেলেনি। মূলত মেম্বাররা প্রতিপক্ষের ইন্ধোনে মিথ্যা ও মনগড়া অভিযোগ ও ষড়যন্ত্র করছেন। অপসারণের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার কথাও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ সদস্য গত ৮ জুলাই চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম নয়নের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগসহ জেলা প্রশাসকের কাছে অনাস্থা প্রস্তাব দেয়। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পায়। পরে তদন্ত প্রতিবেদন চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ জেলা প্রশাসনকে পত্র মাধ্যমে নির্দেশ দিলে গত ১৮ অক্টোবর প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এর পরও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে আসছিলেন মেম্বাররা।








