আগামী ২৮ ডিসেম্বর রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের প্রচার এখন তুঙ্গে। প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে দোয়া আর ভোট চাইছেন, দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। তবে কোনও প্রার্থীই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগেই তারা নিয়ম ভঙ্গ করছেন।
এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৪ জন মেয়র পদে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় পার্টির কোনও প্রার্থী দেয়নি। সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩০ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রতিদন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী টটুল, বিএনপি প্রার্থী ফিরোজ আহাম্মেদ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আজিজুল হক এই তিনজনকে ব্যাপকভাবে গণসংযোগ করতে দেখা গেছে। তারা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে যাচ্ছেন, ভোট চাইছেন।
বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পরিতোষ চক্রবর্তী বলেছেন, তাদের ব্যাপক জনসমর্থন রয়েছে। গতবার পৌর নির্বাচনে ৬ জন কাউন্সিলর জয়ী হয়েছিল। এবার ইভিএমের মাধ্যমে ভোট হবে। ইভিএম সম্পর্কে ভোটারদের কোনও ধারণা নেই। ফলে নির্বাচন নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে তারা আশঙ্কা।
আওয়ামী লীগ প্রার্থী আহসানুল হক চৌধুরী টুটুল বলেছেন, ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন ভোটাররা তাকে সাদরে গ্রহণ করছেন।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাসুদ রানাকে প্রচারে তেমন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। তবে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী কাউকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রচার ও গণসংযোগ করতে দেখা যাচ্ছে না। প্রার্থীরা বেশিরভাগ সময় নিজেরা মাস্ক ব্যাবহার করছেন না। তাদের সঙ্গে থাকা সমর্থকরাও মাস্ক ব্যবহারসহ সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। তবে তাদের দাবি, স্বাস্থ্যবিধি মেনেই প্রচার চালাচ্ছেন।
ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বদরগঞ্জ পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পরেও হয়নি কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন। এর আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয়নি। সে কারণে দলের মার্কা দেখে নয়, এবার যোগ্য প্রার্থী দেখেই তারা ভোট দিতে চান।
রংপুর জেলা নির্বাচন অফিসার দেলোয়ার হোসেন জানান, নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষভাবে করার লক্ষ্যে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। উৎসব মুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এখন পর্যন্ত কোনও প্রার্থী কোন অভিযোগ করেনি।








