পীরগঞ্জে পুরুষশূন্য ৭ গ্রাম, অনেক বাড়িতে তালা

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:২৯আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২১, ১৯:২৯

রংপুরের পীরগঞ্জে হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতার আতঙ্কে সাত গ্রাম পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। সবগুলো গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ১০ দিন ধরে এসব গ্রাম পুরুষশূন্য।

বাড়িতে থাকা নারীরা বলেছেন, গ্রেফতারের ভয়ে আশপাশের গ্রামের পুরুষরা বাড়িতে নেই। কয়েকদিন বাজার করা হয় না। নিরপরাধ, হতদরিদ্র, দিনমজুরকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওসব পরিবারের সদস্যরা।

তবে পুলিশ বলছে, যারা ঘটনায় জড়িত ছিল না তাদের বাড়িতে থাকতে সমস্যা নেই। নিরপরাধ কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং হবে না।

গ্রামবাসী বলছেন, হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত ৬৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের অধিকাংশই হতদরিদ্র ও দিনমজুর। ঘটনায় তাদের সংশ্লিষ্টতা ছিল না। অথচ হামলা মামলার আসামি করে আদালতে চালান দিয়েছে পুলিশ।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের নাখারপাড়া, জায়গিরপাড়া, বড় করিমপুর হিন্দুপাড়া, রাজারামপুর, মজিদপুর, চতরা ইউনিয়নের পলিপাড়া ও সাতগাড়া গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, সাত গ্রামের বাড়িগুলো পুরুষশূন্য। নারী ও শিশুরা বাড়িতে আছেন। আবার কোনও কোনও বাড়ি তালাবদ্ধ। থমথমে পরিস্থিতি। কোনও সাড়াশব্দ নেই।

নাখারপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলামের স্ত্রী আঙ্গুরি বেগম বলেন, প্রতিরাতে গ্রামে সাদা পোশাক পরে লোকজন আসে। তারা পুলিশ নাকি অন্য কোনও সংস্থার লোক বোঝার উপায় নেই। কারণ ছাড়াই পুলিশ পরিচয়ে ডাকাডাকি করে, জানতে চাইলে বলে আসামি খুঁজতেছে।

একই গ্রামের হালিম মিয়ার স্ত্রী লাইজু বেগম বলেন, গ্রেফতার আতঙ্কে ঘটনার পরদিন থেকে আমার স্বামী বাড়ি আসে না। অথচ হামলার দিন আমার স্বামী বাড়িতে ছিল না।

জায়গিরপাড়া গ্রামের গৃহবধূ আয়েশা ছিদ্দিকা বলেন, আমার স্বামী বিভিন্ন এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করে। গ্রেফতারের ভয়ে আট দিন ধরে বাড়ি আসে না। অর্থের অভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে আছি আমরা।

একই অভিযোগ করেছেন নাখারপাড়া গ্রামের গৃহবধূ মমতাজ বেগম, লাইলী বেগম, জায়গিরহাট গ্রামের মাহমুদা বেগম, রাজারামপুর গ্রামের মাকসুদা বেগম, বড় করিমপুর গ্রামের সাদেকা আক্তার ও হালিমা।

ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি হিন্দু পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, নাখারপাড়া, জায়গিরপাড়াসহ কয়েক গ্রামের লোকজন হামলায় অংশ নেয়নি। যদি দুই-একজন অংশ নিয়েও থাকে, শুধু তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করুক পুলিশ। এভাবে গ্রেফতার করে নিরপরাধ কাউকে যেন হয়রানি করা না হয়।

রামনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদেকুল ইসলাম বলেন, আমরা গ্রামবাসীকে বাড়িতে থাকতে বলেছি। তবে এটা সত্য, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে; তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তি আছেন। বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। তারা আমাদের বলেছে, তদন্ত করে শুধু দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

রায়পুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান চৌধুরী দুলাল বলেন, আমার ইউনিয়নের ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তার মধ্যে সাতজন নিরপরাধ। সোডাপীর বাজারের মুদি দোকানি ওমর আলীকে ঘটনার পরদিন তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। বর্তমানে তিনি কারাগারে। অথচ ঘটনার দিন তিনি দোকানে ছিলেন।

গ্রেফতার আতঙ্কে কোচিংয়ের জন্য বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। কারণ হিসেবে তারা বলছে, ঘটনার পর কয়েকজন শিশু ও শিক্ষার্থীকে হামলা মামলায় আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনার পর থেকে মাঝিপাড়া কসবা এলাকার আশপাশের সোডাপীর বাজার, সাতগাড়া বাজার, নেংটি ছিড়ার বাজার, বটের হাট, গনির বাজার ও মন্ডলের বাজার সন্ধ্যার পর ফাঁকা হয়ে যায়। গ্রেফতার আতঙ্কে বাজার করতে আসে না গ্রামের মানুষ। ফলে কেনাবেচা কমে গেছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, পুলিশ যখন তখন যে কাউকে আটক করে নিয়ে যায়। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা নেই, এমন ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। বটেরহাট বাজারে হোটেলশ্রমিক হারুনসহ দুই জনকে কারণ ছাড়াই ধরে নিয়ে মামলায় চালান দিয়েছে। পীরগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রনি ও মিল্লাতকে মামলায় জড়িয়েছে পুলিশ।

এলাকাবাসী জানায়, যারা ঘটনায় জড়িত তাদের গ্রেফতার করা হোক। নিরপরাধ ব্যক্তিকে গ্রেফতার বন্ধ করা হোক।

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেশ চন্দ্র বলেন, নিরীহ কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়নি। ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার প্রমাণ পেয়েই গ্রেফতার করা হয়েছে। 

সাত গ্রাম পুরুষশূন্য এমন কথা সঠিক নয় জানিয়ে ওসি বলেন, আমরা বলেছি যারা ঘটনায় জড়িত নন, তারা বাড়িতে থাকবেন। অন্যায়ভাবে কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি এবং হবে না।

/এএম/
সম্পর্কিত
২ সহযোগীসহ মোহাম্মদপুরের ছিনতাইকারী আকাশ গ্রেফতার
রাজধানীতে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ নেতা গ্রেফতার
আদাবরে ঢাবি শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় গ্রেফতার ৯
সর্বশেষ খবর
চার অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
চার অঞ্চলে ঝড়ের আভাস
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিফতরে অবিবাহিতদের চাকরির সুযোগ, লাগবে না অভিজ্ঞতা
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিফতরে অবিবাহিতদের চাকরির সুযোগ, লাগবে না অভিজ্ঞতা
মাজারের কুমিরটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে
মাজারের কুমিরটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিবিড় পর্যবেক্ষণে
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের
শিশু রামিসা হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক আজ, আদালতে আনা হয়েছে আসামিদের
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের