১৮ মাসের নির্মাণকাজ শেষ হয়নি সাড়ে তিন বছরেও

মোয়াজ্জেম হোসেন, লালমনিরহাট
১০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৪৫আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৫১

মেয়াদ শেষ হওয়ার দুই বছরেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি লালমনিরহাট সদর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল। লাখ লাখ মানুষের চিকিৎসার জন্য একমাত্র হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। জায়গার অভাবে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক-নার্সসহ কর্তৃপক্ষকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগ ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদর হাসপাতালটির দশতলা ভিতযুক্ত আটতলা ভবনের নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার মিরপুর এলাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সাজিন এন্টারপ্রাইজ (জেভি)। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ৩৬ কোটি ৯০ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগ। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাসে নির্মাণকাজ সম্পাদনের সময়সীমায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি কার্যাদেশ পায় ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট। একই বছরের ২২ অক্টোবর নির্মাণকাজ শুরু করে ২০১৯ সালের ২১ আগস্ট শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু দুই বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যত ৮০ শতাংশ কাজও শেষ হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা করোনাভাইরাস সংকটের কারণে নির্মাণকাজ শেষ হতে দেরি হচ্ছে বলে জানান।   

লালমনিরহাটে নির্মাণাধীন ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শেষ হবে কবে? এই প্রশ্ন হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়! অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেই।

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, লালমনিরহাট সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ প্রকল্পে ১০তলা ভিতযুক্ত ভবনের আটতলা নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে স্যানিটারি, পানি সরবরাহ, আন্তবিভাগ এবং বহির্বিভাগের বৈদ্যুতিক লাইন, ভূগর্ভস্থ জলাধার, পাম্প হাউজ, গভীর নলকূপ, সীমানাপ্রাচীর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, পিএবিএক্স, লিফট, জেনারেটর, সাবস্টেশন বিল্ডিং অ্যান্ড ইকুইপমেন্টস, অগ্নিনির্বাপক, অ্যাপ্রোচ রোড, কার পার্কিং, কম্পাউন্ড লাইটিং অ্যান্ড অরবোরিকালচার করার বিষয়ে সিডিউলে উল্লেখ রয়েছে।

সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মো. আব্দুল বাসেত বলেন, ‘বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে প্রতিদিন এ জেলার প্রায় ৮শ থেকে ১৪শ’ রোগী আসে। জায়গার অভাবে তাদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া অন্তবিভাগে শয্যা ও কেবিন সংকটের কারণে অনেক রোগীকে লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল থেকে রংপুরে পাঠানো হচ্ছে। যদি নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালের নির্মাণকাজ শেষ করা যেত, তাহলে অতিমারী করোনা রোগীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও নির্বিঘ্নে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হতো। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরাও রোগীদের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারছি না। তাই সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করছি, যেন অনতিবিলম্বে হাসপাতালটি নির্মাণকাজ শেষে চালু করে দেওয়া হয়।’

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আইরিন আক্তার বলেন, ‘অতিমারি করোনা সংকটকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আমার সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। সেখান থেকে লালমনিরহাটে বাসায় ফেরার পর জটিল সমস্যায় ভুগছিলাম। এরপর লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়েছি। চিকিৎসাসেবা ভালো পেলেও হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও জায়গা সংকটের কারণে অনেক কষ্ট ভোগ করতে হয়েছে। জেলা সদর হাসপাতালে কত সমস্যা  তা সেখানে ভর্তি না হলে বোঝা যাবে না!’   

লালমনিরহাট সদর উপজেলার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বসুনীয়া বলেন, ‘হাসপাতালটির নির্মাণকাজ সঠিক সময়ে শেষ করা হয়নি। এতে রোগীদের পাশাপাশি চিকিৎসা কাজে নিয়োজিতদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের নির্মাণকাজে যে ধরনের সামগ্রী ব্যবহার করার কথা, তা নিশ্চিত করার ব্যাপারেও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। এসব যেন দেখার কেউই নেই।’

লালমনিরহাট সদর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ও ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল বাসেত বলেন, ‘আমার দায়িত্ব নেওয়া এক মাসের কম। সবকিছু এখনও জানি না। তবে নতুন হাসপাতালটির কাজ এখনও শেষ না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী, নার্স, চিকিৎসক সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এতে কোনও সন্দেহ নেই। বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবো।’ 

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান সরকার বলেন, ‘করোনা সংকট ও ডিজাইন পরিবর্তনজনিত সমস্যার কারণে ২০১৯ সালের ২১ আগস্টের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তাই কাজ শেষ করতে বিলম্ব হয়েছে। বর্তমানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের ৩০ জুন নির্মাণকাজ শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে হাসপাতাল ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।’ 

 

/এমএএ/
সম্পর্কিত
দুই দল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে ৬২ জন আহত
বহু কাজ এখনও বাকি, কীভাবে চালু হবে শিশু হাসপাতাল
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
সর্বশেষ খবর
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
নকিব মুকশির নতুন কাব্যগ্রন্থ ‘ঝিনুকধানী’
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
ঈদুল আজহা: ১৩ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৮১
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
এবছরই সব স্কুলে ফিডিং চালুর পরিকল্পনা, পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা: শিক্ষামন্ত্রী
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের