গত কয়েকদিনের বৃষ্টি আর বাতাসে উত্তরের সীমান্ত এলাকা হিলিতে জেঁকে বসেছে শীত। রবিবার (১৪ নভেম্বর) হিলি ঢাকা পড়েছিল কুয়াশার চাদরে। বেলা ১১টা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। ঘুন কুয়াশায় ভিজিছে মাঠ-ঘাট-প্রান্তর। এ সময় সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করেছে বাস-ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন। শীত ও কুয়াশায় বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। জ্বর-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন তারা।
স্থানীয় ভ্যানচালক সাইদুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সকাল থেকেই হঠাৎ করে কুয়াশা পড়তে শুরু করে। একইসঙ্গে বেড়েছে ঠাণ্ডা। এতে ভ্যান চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ঘনকুয়াশা ও শীতে মানুষজন তেমন বের না হওয়ায়, সকালে বের হয়েও আশানুরূপ যাত্রী মেলেনি বলে জানান তিনি।
দিনমজুর খালেদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সকাল থেকে হঠাৎ করে কুয়াশার চাদরে যেন সব ঢাকা পড়ে। কুয়াশা ও শীতের মধ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়া খুব কষ্টকর। তারপরেও কাজ না করলে চলবে কীভাবে। এ কারণে কাজের সন্ধানে বের হয়েছি। তবে কুয়াশা ও শীতের কারণে জ্বর-কাশি দেখা দিচ্ছে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক লুৎফর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আজ এত বেশি কুয়াশা পড়েছে, যে আমাদের হেডলাইট জ্বালিয়ে সিগন্যাল দিয়ে তারপর চলাচল করতে হয়েছে। পাঁচবিবি থেকে হিলি পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার রাস্তা আসতে খুব ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়েছে।
ট্রাকচালক রবিউল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বগুড়া থেকে ভোর পাঁচটায় ট্রাক নিয়ে হিলির উদ্দেশ্যে বের হয়েছি। কিন্তু সড়কে হঠাৎ করে প্রচণ্ড কুয়াশার দেখা মেলে। এতে ট্রাক চালাতে খুব কষ্ট হয়েছে। এত কুয়াশা ছিল, যে পাঁচ হাত দূরের কিছুই দেখতে পাইনি। হেডলাইট জ্বালিয়ে ট্রাক চালানোর পরেও কষ্ট হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, লঘুচাপের প্রভাবে গত কয়েকদিন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়েছে। রবিবার বিকালের মধ্যে তা কমে আসবে। তবে সাগরে লঘুচাপ আছে। আর এটি নিম্নচাপে রূপ নিয়ে সোমবার নাগাদ ভারতের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টির পর সারাদেশে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে জানান তিনি।









