দিনাজপুরের হিলিতে চলতি আমন মৌসুমে ভালো ফলন পাওয়ায় খুশি কৃষকরা। ধানের ভালো দাম পাওয়ায় উৎপাদন খরচ উঠে লাভবান হচ্ছেন তারা। চাল আমদানি বন্ধ থাকলে ধানের দাম ১৩০০ টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানালেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা।
হিলির বৈগাম গ্রামের কৃষক আনছার আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবার ধান রোপণের সময় বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেচ দিয়ে রোপণ করেছি। যখন ধান বের হবে তখন মাজরা পোকা ও ছত্রাকের আক্রমণ দেখা দেয়। এতে ধানের ফলন নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী কীটনাশক ব্যবহার করে সেই অবস্থা থেকে কেটে উঠেছি। এখন ধান পেকেছে। ইতোমধ্যে কাটতে শুরু করেছি। ভালো ফলন হয়েছে। গতবার যেখানে বিঘাপ্রতি ১০-১২ মণ ফলন হয়েছিল এবার ১৪-১৫ মণ হয়েছে। গতবার সাড়ে ৯০০ টাকা মণ ধান বিক্রি করলেও এবার এক হাজার ৫০ টাকা বিক্রি করছি। ধানের দাম আরও বাড়বে। বিঘাপ্রতি ধান রোপণ থেকে শুরু করে কাটা পর্যন্ত সাড়ে আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। যে দাম পাচ্ছি তাতে খরচ বাদ দিয়ে ভালোই লাভ হচ্ছে।
একই গ্রামের কৃষক শফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ধানের ভালো ফলন হয়েছে। দামও ভালো। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লাভ কমেছে। শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে। ধান মাড়াই করতে বেশি খরচ হচ্ছে। আগে যেখানে ৫০০ টাকায় একবিঘা জমির ধান মাড়াই করতাম এবার ৭০০ টাকায় করছি। পাশাপাশি আগে জমিতে চাষ দিতে ৯০০ টাকা বিঘাপ্রতি লাগতো। এখন তা বেড়ে ১২০০ টাকা হয়েছে। তেলের দাম বাড়ায় এই খরচ বেড়েছে আমাদের।
তিনি বলেন, আগে যেখানে দুই-তিন বার কীটনাশক দিতাম, এবার পাঁচ-ছয় বার দিতে হয়েছে। বিঘাপ্রতি অতিরিক্ত এক হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এরপরও ধানের দাম ভালো পাওয়ায় লাভবান হচ্ছি। তবে জ্বালানি তেলের দামটা কমানো দরকার। তাহলে উৎপাদন খরচ কমবে। লাভ বেশি হবে।
ছাতনি চারমাথা মোড়ের ধানের আড়তদার রওশন হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত বছর ধানের মণ ছিল ৯০০ থেকে সাড়ে ৯০০ টাকা। এবার এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার ৬০-৭০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে। ধানের মানও বেশ ভালো। এসব ধান দেশের বিভিন্ন স্থানে অটোরাইস মিলগুলোতে সরবরাহ করা হয়। সামনে ধানের দাম আরও বাড়তে পারে। ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। তবে সরকার যদি এলসির মাধ্যমে চাল আমদানি বন্ধ রাখে তাহলে গতবার যেমন শেষ সময়ে ধানের মণ ১৩০০ টাকা উঠেছিল এবার আরও বাড়তে পারে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মমতাজ সুলতানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় আট হাজার ১৫৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। ইতোমধ্যেই ধান কাটা শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত ছয় হাজার ১৬০ হেক্টর জমির ধান কাটা হয়েছে। যা মোট আবাদের প্রায় ৭০ শতাংশ। বিগত বছরের চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। এতে কৃষকরা যেমন খুশি আমরাও আশাবাদী।









