জালিয়াতি করে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, মাদ্রাসার সহকারী সুপার কারাগারে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:০৯আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২১, ২২:০৯

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার দাশিয়ারছড়ার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী সুপার শাহ নুর আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মাদ্রাসার ‘ভুয়া’ সভাপতি আব্দুল খালেককেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগে করা মামলায় সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট সুমন আলী এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী হারুন অর রশীদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শাহ নুর আলম ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর ঘুঘুরহাট গ্রামের ময়েন উদ্দিনের ছেলে এবং আব্দুল খালেক দাশিয়ারছড়ার মৃত আজগার আলীর ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসার সহকারী সুপার পদে থেকে শাহ নুর আলম নিজেকে সুপার এবং আব্দুল খালেককে সভাপতি দেখিয়ে মাদ্রাসা সুপার আমিনুল ইসলাম মিয়া ও সভাপতি আ. রহমান মিয়ার অজান্তে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেন। বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ. রহমান মিয়া চলতি বছরের জুন মাসে শাহ নুর আলম ও আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ এনে মামলা করেন। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার পর সোমবার শাহ নুর আলম ও আব্দুল খালেক আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার আমিনুল ইসলাম মিয়া বলেন, শাহ নুর আলম সহকারী সুপার হলেও নিজেকে সুপার এবং আব্দুল খালেককে ভুয়া সভাপতি দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আ. রহমান মিয়া বাদী হয়ে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পান। জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

আমিনুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘আমি সুপার এবং মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আ. রহমান প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেও সহকারী সুপার শাহ নুর আলম নিজেকে সুপার এবং আব্দুল খালেককে ভুয়া সভাপতি দেখিয়ে ভুয়া সিল বানিয়ে প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। যা অবৈধ এবং প্রতারণার শামিল।’

আদালতের বেঞ্চ সহকারী হারুন অর রশীদ বলেন, আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তদের কুড়িগ্রাম জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ছিটমহল বিনিময়ের পরপরই ২০১৫ সালে দাশিয়ারছড়ার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে এটি সরকারি করা হয়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী কর্মরত আছেন বলে প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে। তবে শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনও এমপিও পাননি।

/এএম/
সম্পর্কিত
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ফোনালাপ ফাঁসের পর বদলি করা হলো জেল সুপারকে
সর্বশেষ খবর
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ট্রাফিক আইন সবার জন্য সমান, পুলিশ সদস্য হলেও ব্যবস্থা: ডিএমপি কমিশনার
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
ফ্রিল্যান্সারদের আয় থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ কর কাটা নিয়ে যা বলছে এনবিআর 
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে