কনকনে শীতে কাবু হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়ের মানুষ। বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তাপমাত্রাও দ্রুত কমেছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এখানে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছে দিনমজুর খেটেখাওয়া অসহায় শীতার্ত মানুষ।
আবহাওয়া অফিস বলছে, মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার কারণে বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় বাতাসের গতিবেগ বেড়ে গেছে। তেঁতুলিয়ায় রাতে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৬ থেকে ৮ নটিকেল মাইল। সেই সঙ্গে বাতাসের আদ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ। কুয়াশা না থাকলেও হাড় কাঁপানো শীত এই জনপদের মানুষকে কাবু করে ফেলেছে। হিমালয় থেকে আসা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের ফলে আবহাওয়ার এমন রূপ দেখা দিয়েছে।
রাত থেকে শুরু হয়েছে হাড় কাঁপানো শীত। কুয়াশা না থাকলেও হিমালয়ের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে শৈত্যপ্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় কনকনে শীতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সকালে সূর্য উঠলেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে শীতের প্রকোপ একটুকুও কমেনি। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত কনকনে শীতে মানুষ জবুথবু হয়ে পড়েছে। মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারেনি। রাতেও দ্রুত হাটবাজার বন্ধ হয়ে যায়। ফাঁকা হয়ে যায় শহর। সড়ক মহাসড়কে মানুষ ও যানবাহন চলাচল কমেছে। জরুরি কাজ ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে অনেকেই শীত উপেক্ষা করে কাজের সন্ধানে ছুটছেন দিনমজুর খেটেখাওয়া মানুষ।
কাজের সন্ধানে আসা শ্রমিক আনোয়ার হোসেন (৫৫) জানান, আজকে খুব ঠান্ডা। বাতাসের কারণে হাত-পা, মুখ অবশ হয়ে যাচ্ছে। যাতায়াত করা যাচ্ছে না। শীতের মধ্যে আমাদের প্রতিদিন চলাচল করতে হয়। আমরা জানি কোনদিন বেশি ঠান্ডা।
জেলা শহরের ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান জানান, রোদ উঠলেও ঠান্ডা বেড়েছে। বাতাসের পরিমাণ বেশি থাকায় ঠান্ডা বেশি অনুভূত হচ্ছে। এমন আবহাওয়া বিরাজ করায় শীতবস্ত্রের অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ। চোখ ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।
শাহজাদা নামে এক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, আজকে কুয়াশা কম রোদ উঠেছে। তবুও গাড়ি চালাতে প্রচুর ঠান্ডা লাগছে। হাতমোজা পরেও কোনও কাজ হচ্ছে না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, শুক্রবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় ৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এমন আবহাওয়া অপরিবর্তিত থাকতে পারে।









