গাইবান্ধার সদর উপজেলায় তালাক দেওয়া স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে মারপিটে সাকোয়াত হোসেন (৩২) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ডাকাত উল্লেখ করে তাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে সাবেক স্ত্রী শিউলি বেগম ও তার বর্তমান স্বামী বায়েজিদ ইসলামকে আটক করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় সাকোয়াতের। এরআগে, বুধবার গভীর রাতে খোলাহাটি ইউনিয়নের দক্ষিণ আনালের তাড়ি গ্রামে তাকে পিটিয়ে আহত করা হয়। সাকোয়াত হোসেন গাইবান্ধা জেলা শহরের সরকার পাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
অন্যদিকে সাবেক স্ত্রী শিউলি বেগম (২২) সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের আনালের তাড়ি গ্রামের সৈয়দ আলীর মেয়ে ও তার বর্তমান স্বামী বায়োজিদ ইসলাম (২৪) একই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
পুলিশ ও স্বজনরা জানান, দুই বছর আগে সাকোয়াতের সঙ্গে শিউলির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের দুজনের মধ্যে কলহ চলছিল। এক পর্যায়ে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ (তালাক) হয়ে যায়। এরপর শিউলি একই গ্রামের বায়োজিদকে বিয়ে করেন। কিন্তু তালাক দেওয়ার পরেও সাকোয়াত ও শিউলির মধ্যে যোগাযোগ ছিল।
বুধবার রাতে সাকোয়াত শিউলির সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার স্বামী বায়োজিদ ইসলাম টের পেয়ে যান। পরে ডাকাত এসেছে বলে চিৎকার করে বায়োজিদসহ পরিবারের লোকজন। তাৎক্ষণিক আশপাশের লোকজন ছুটে এসে সাকোয়াতকে আটক করে। এসময় তাদের এলোপাতাড়ি মারধরে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় সাবেক স্ত্রী শিউলি ও স্বামী বায়োজিদসহ স্বজনরা।
সদর থানা পুলিশের উপ-পরির্দশক (এসআই) মনিরুজ্জামান জানান, ডাকাত সন্দেহে সাকোয়াতকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সাবেক স্ত্রী শিউলিসহ তার স্বামী বায়োজিদকে আটক করা হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জড়িত কয়েকজন পালিয়ে গেছে। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. মাসুদার রহমান জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। ঘটনায় জড়িত আটক দুই জনকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।









