রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় গৃহবধূ রেহেনা বেগমকে হত্যার দায়ে লাভলু মিয়া নামে একজনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তিন হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মে) দুপুরে রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রেজাউল করিম এই রায় ঘোষণা করেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে পুলিশি পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়। লাভলু উপজেলার শংকরপুর উত্তরপাড়া গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই রাতে শংকরপুর মধ্যপাড়া গ্রামের খোরশেদ আলমের মা রেহেনা বেগমের ঘরে চুরি করতে ঢোকে লাভলু। ড্রয়ার খুলে মাত্র ১০০ টাকা পায়। এরপর রেহেনা বেগমের কানে থাকা সোনার দুল ছিনিয়ে নেয়। এ সময় রেহেনা বেগম তাকে চিনে ফেলেন। নাম ধরে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে পাথর দিয়ে মাথায় মেরে তাকে হত্যা করে লাভলু। এরপর লাশ বাড়ির অদূরে বাঁশ ঝাড়ে ফেলে চলে যায়।
এ ঘটনায় রেহেনার ছেলে খোরশেদ আলম বাদী হয়ে মিঠাপুকুর থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ লাভলুকে গ্রেফতার করলে হত্যার দায় স্বীকার করে। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ তদন্ত শেষে লাভলুর নামে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ২০১৬ সালের ১৫ জুন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। ২১ জন সাক্ষীর জবানবন্দি ও জেরা শেষে আদালত আজ আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায় দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জয়নাল আবেদীন জানান, রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতান আহামেদ শাহীন জানান, তারা ন্যায্য বিচার পাননি। রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।









