ঝড়ে বসতঘরে গাছ পড়ে ১০ দিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন

নীলফামারী প্রতিনিধি
২৫ মে ২০২২, ২১:৫৩আপডেট : ২৫ মে ২০২২, ২১:৫৩

নীলফামারী সদরে বাড়ির ওপর সরকারি গাছ ভেঙে পড়ায় অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে একটি পরিবার। ১০ দিনেও সরানো হয়নি গাছটি। এতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।

গত ১৭ মে উপজেলার খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের দক্ষিণ কিষামত গোড়গ্রামে নজরুল ইসলামের (৪৫) বাড়ির ওপর ঝড়ে একটি আম গাছ ভেঙে পড়ে। সরকারি গাছ হওয়ায় ওই পরিবারসহ এলাকাবাসীরা গাছটি কাটতে পারছেন না। ফলে গাছের চাপায় ভেঙে পড়া ঘরে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন শিশুসহ পরিবারের ছয় সদস্য।

তাদের অভিযোগ, গাছটি ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌখিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদ এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন নাহারকে জানানো হয়েছে। ২২ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফের লিখিতভাবে জানানো হয়। তারপরও গাছটি সরানো হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত ঘর মেরামত করতে না পারায় ঝড়বৃষ্টির মধ্যে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে।

বুধবার (২৫ মে) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পাকা সড়কের পাশে অনেক পুরাতন একটি আম গাছ উপড়ে পড়ে আছে বাড়ির ওপর। গাছের চাপায় বাড়ির তিনটি ঘরই দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। নিরুপায় হয়ে ভাঙা ঘরেই বসবাস করতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের।

নজরুল ইসলাম বলেন, ‘১৭ মে রাতে প্রচণ্ড ঝড়ে গাছটি উপড়ে পড়ে একসঙ্গে তিনটি ঘর চাপা পড়ে। ঘটনাটি রাতে হওয়ায় ঘরের ভেতর ছেলেমেয়েসহ সবাই আটকা পড়ি। ঝড় থামার পর প্রতিবেশীরা এসে আমাদের উদ্ধার করেন। কিন্তু ওই গাছটি সরকারি হওয়ায় সরাতে পারছি না। সরকারি লোকজনকে জানানো হলেও তারা অপসারণ না করায় ১০ দিন ধরে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘২৩ মে সন্ধ্যার আগে উপজেলা প্রশাসনের দুজন কর্মচারী এসে পরিদর্শন করে গেলেও বুধবার বিকাল পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

নজরুল ইসলামের ছেলে রাজু ইসলাম (২৫) বলেন, ‘সরকারি গাছের কারণে আমরা সরাতে পারছি না। জানানোর পরও সরকারি কোনও লোকজন আসছেন না। ফলে শিশুসহ আমরা ভাঙা ঘরে বসবাস করছি।’

প্রতিবেশী আব্দুল লতিফ (৫০) বলেন, ‘দিনমজুর ওই পরিবারটি গত ১০ দিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনও জায়গা না থাকায় বৃষ্টির মধ্যে ভাঙা ঘরেই বসবাস করছে। সরকারি লোকজনকে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করছেন না।’

খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান প্রধান বলেন, ‘গাছটি অপসারণ করা জরুরি। গাছটি কাটার বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদে রেজুলেশন করে রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে দিয়েছি। ইউএনও লোক পাঠাবেন বলে জানিয়েছেন। কিন্ত এখনও কাউকে পাঠাননি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন নাহার বলেন, ‘আমি জানার পর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে গাছটি অপসারণ করতে বলেছি। এটা সব জায়গায় জরুরিভাবে অপসারণ করা হয়। কিন্তু তিনি এখনও সেটি না করার কারণ জানি না। আমি দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

/আরকে/এএম/
সম্পর্কিত
মির্জাপুর থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত তীব্র যানজট, আটকা হাজারো যানবাহন
লোডশেডিংয়ে মরে যাচ্ছে মুরগি, কী করবেন খামারিরা
ঈদযাত্রায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ভোগান্তির শঙ্কা
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান