দুর্গাপূজাকে ঘিরে নীলফামারীর ছয়টি উপজেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। কে কত ভালো প্রতিমা তৈরি করে ভক্তদের হৃদয় ছুঁতে পারেন তারই প্রতিযোগিতা চলছে মণ্ডপে মণ্ডপে। সামর্থ্য অনুযায়ী স্থানীয় ও অন্য জেলা থেকে কারিগর এনে প্রতিমা তৈরি করছে পূজা মণ্ডপ কমিটি।
জেলা শহরের মিলন পল্লী মহল্লার সার্বজনীন দুর্গা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করছেন কারিগর নিখিল চন্দ্র পাল। প্রতিমা তৈরির কাজে তিনি ফরিদপুর থেকে নীলফামারী এসেছেন।
নিখিল চন্দ্র পাল বলেন, ‘এ বছর আটটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ নিয়েছি। বংশ পরম্পরায় এই কাজ করে আসছি। এ বছর প্রতিটি প্রতিমা তৈরির খরচ ৮০ হাজার টাকা নিলেও আমাদের পোষাবে না। কারণ প্রয়োজনীয় উপকরণের মধ্যে রঙ, কাপড়, পুঁথির মালা, পরচুলা, চুমকি, শোলা ও কারিগরের মজুরিসহ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। শুধু পেশাটাকে টিকিয়ে রাখার জন্য এ কাজ করতে হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত দুই বছর করোনা মহামারির কারণে ঢিলাঢালাভাবে দায় সেরেছিল পূজা মণ্ডপ কমিটি। এ বছর আশায় বুক বেধেছিলাম, কিন্তু বৈশ্বিক যুদ্ধের কারণে সব কিছুর দাম বেড়েছে। তাই খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবারও লোকসান গুনতে হবে। স্থানীয় পূজা কমিটিও এ বাজেট সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।’
সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া কাছাড়ী বাজরের সর্বজনীন পূজা মণ্ডপের কারিগর চন্দন রায় জানান, একটি চালা ঘরের মধ্যে প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দেবী দুর্গার সঙ্গে রয়েছেন কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী ও স্বরসতী। এছাড়া এখন পর্যন্ত বাঘ ও অশুরের মুখমণ্ডলসহ দেহের কাঠামো গঠন করা হয়েছে। প্রতিমাগুলো রোদে শুকানোর কাজ চলছে। আর কিছুদিন পরেই রঙ-তুলির আঁচড়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে প্রতিটি প্রতিমা।
তিনি বলেন, ‘মৃৎশিল্পীদের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় এই কাজ করে আর পোষায় না।’
ওই মন্দিরের সভাপতি ধীরেশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘বর্তমানে বাজারমূল্য ঊর্ধ্বগতির কারণে দুর্গা পূজা অর্চনা, প্রসাদ কেনার খরচ—সবমিলিয়ে কমিটির সদস্যরা হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে কারিগরের মজুরিসহ অন্যান্য উপকরণ কেনা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’
নীলফামারী কেন্দ্রীয় শিব মন্দিরের পুরোহিত সত্যেন্দ্র নাথ গাঙ্গঁলী জানান, এ বছর জেলার ৮৪৭টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মাধ্যমে দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এ বছর মা দুর্গা গজে (হাতি) আগমন করবেন। এর অর্থ শস্যপূর্ণ বসুন্ধরা। আর বিজয়া দশমীতে গমন করবেন নৌকায়। এর অর্থ শস্যবৃদ্ধি আশানুরূপ হলেও বন্যা ও জলোচ্ছাসে কিছু শস্য নষ্ট হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ নীলফামারী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপক চন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘জেলায় ৮৪৭টি পূজা মণ্ডপ রয়েছে। উপজেলা ভিত্তিক প্রতিটি কমিটিকে ডিজে পার্টির নামে অশ্লীলতা বন্ধের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোতে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা ঘটাতে না পারে সে জন্য পুলিশ প্রশাসন সর্বদা দায়িত্ব পালন করবে। আমরা সতর্কতার সঙ্গে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।’
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রউপ জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে থানা পুলিশের পাশাপাশি পূজা মণ্ডপে থাকবে আনসার, গ্রাম পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবী সদস্য।









