রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলুর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে গঙ্গাচড়া উপজেলার মৌলভীবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রতিবাদে রাতে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
গঙ্গাচড়া থানার ওসি দুলাল হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা বাবলু আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা বাবলু তার নিজের প্রাইভেট কার নিয়ে রংপুর থেকে গঙ্গাচড়া যাচ্ছিলেন। তার গাড়িটি মৌলভীবাজার নামক স্থানে পৌঁছালে জাতীয় পার্টির নেতা খোকনের নেতৃত্বে ৪০/৫০ জনের একটি দল গাড়ি থামিয়ে তাকে লাঠি ও রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করেছে। পরে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
আসাদুজ্জামান বাবলু জানিয়েছেন, তার হাত ভেঙ্গে গেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত রয়েছে। এ ঘটনার জন্য স্থানীয় জাতীয় পার্টি নেতা দুলুকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দুলু চেয়ারম্যান পদে পরাজিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
একই অভিযোগ করেন আহত বাবলুর মা শিরিন আখতার। তিনি বলেন, গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মাজাহারুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছিলেন। পরাজিত হন জাতীয় পার্টির প্রার্থী দুলু। যেহেতু তার ছেলে বাবলু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে ফলে তার কারণেই জাতীয় পার্টির প্রার্থী পরাজিত হয়েছে বলে অনেক দিন ধরে তার ওপর হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছিল।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে উপজেলা পরিষদের জিরো পয়েন্টে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ থেকে বাবলুর ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এ ঘটনার পর উপজেলা সদরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গঙ্গাচড়া থানার ওসি দুলাল হোসেন জানান, মৌলভীবাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা বাবলুর গাড়ির ধাক্কায় জাতীয় পার্টি নেতা দুলুর ম্যানেজার খোকন আহত হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ লোকজন বাবলুর গাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে এবং তার ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি আহত হন। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








