রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশ চলাকালে মঞ্চে ওঠা নিয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতার মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৯ অক্টোবর) মহাসমাবেশ চলাকালে দুপুর সোয়া ২টার দিকে প্রায় ২০-২৫ মিনিট ধরে বাগবিতণ্ডা ও মারামারি চলে। এতে মঞ্চের কাছে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কালেক্টরেট মাঠে মহাসমাবেশ শুরু হয় দুপুর ১২টার দিকে কোরান তেলওয়াতের মধ্য দিয়ে। তখনও প্রধান অতিথি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা আসেননি। এ সময় রংপুর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীদের বক্তৃতা করার জন্য নাম ঘোষণা করে মঞ্চে ডাকা হয়। কিন্তু জেলা ও মহানগরের অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের বক্তৃতা দিতে না ডাকায় মঞ্চের পাশে বেশ কয়েকজন নেতাকে চিৎকার করতে দেখা যায়।
তারা আরও জানান, এ সময় কয়েকজন নেতা মঞ্চে ওঠার চেষ্টা করলে সেখানে দায়িত্বকরত কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে প্রথমে বাগবিতণ্ডা পরে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। তখন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সমাবেশের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন এসে হাত জোড় করে তাদের শান্ত হতে বলেন। কিন্তু এরপরও হাতাহাতি চলতে থাকে। পরে অন্যান্য নেতারা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এতে অনেক নেতাকর্মী মহাসচিব বক্তব্য দেওয়ার আগেই সভাস্থল ত্যাগ করেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সমাবেশে ছিলাম। তবে এমন কিছু দেখিনি। এই নিয়ে কেউ অভিযোগও দেননি।’
নাম না প্রকাশের শর্তে জেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, মারামারির ঘটনা ঘটেনি। তবে বাগবিতণ্ডা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সমাধান হয়ে গেছে।
শৃঙ্খলাহীনতা...
সভা মঞ্চের কাছে নারী নেতাকর্মীদের জায়গা দখল করে অনেককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। গণমাধ্যম কর্মীদের বসার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে সাংবাদিকদের। এ নিয়ে অনেককেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া টেলিভিশনের ক্যামেরা পার্সনদের জন্য উঁচু মঞ্চ তৈরি করা হলেও সেখানে বহিরাগত বেশ কয়েকজনকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। বারবার মাইকে নিষেধ করার হলেও তারা সেখান থেকে সরেননি। অন্যদিকে, শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য স্বেচ্ছাসেবক রাখা হলেও তারা নারীদের জন্য নির্ধারিত স্থান থেকে পুরুষ নেতাকর্মীদের সরাতে পারেনি। এ ছাড়া সাংবাদিকদের জায়গা দখল করে রাখা নেতাকর্মীদেরও সরাতে পারেননি।
এদিকে, দুপুর ২টায় সমাবেশ শুরুর ঘোষণা দেওয়া হলেও দুই ঘণ্টা আগে দুপুর ১২টায় সমাবেশ শুরু করা হয়েছে। দুই ডজনেরও বেশি বক্তা বক্তব্য দেওয়া শুরু করলে সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ফলে সভা শুরুর পর অনেককে সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যেতে দেখা গেছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিকাল ৪টার পর যখন বক্তব্য দিতে উঠেছেন তখন মাঠের পেছনের অংশ অনেকটা ফাঁকা ছিল।








