হিলিতে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান

দুই মাসে এক কেজি ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

হালিম আল রাজী, হিলি
১৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৩, ১২:০০

উদ্বোধনের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও দিনাজপুরের হিলিতে চলতি আমন মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে কোনও ধান সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। এ অবস্থায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে দেখা দিয়েছে শঙ্কা।

খাদ্য বিভাগের দাবি, খোলা বাজারের তুলনায় গুদামে দাম কম ও ঝামেলার কারণে ধান দিচ্ছেন না কৃষকরা। পাশাপাশি উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম কম হওয়ায় গুদামে চাল দিতে আগ্রহী নন মিলাররা। তবে ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও চালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে বলে আশাবাদী খাদ্য বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের মতো গত ১৭ নভেম্বর হিলিতে ২৮ টাকা কেজিতে কৃষকদের কাছ থেকে ৪৫৬ মেট্রিক টন ধান ও ৪২ টাকা কেজিতে মিলারদের কাছ থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এখন পর্যন্ত একমুঠো ধান সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ। তবে উপজেলার ২২ মিলারের মধ্যে ১১ জন গুদামে চাল সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হলেও এ পর্যন্ত পাঁচ জন ৫৭ টন চাল সরবরাহ করেছেন।

দুই মাসে এক কেজি ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

সরকারি খাদ্য গুদামে ধান দিতে গেলে নানা ঝামেলা পোহাতে হয় জানিয়ে হিলির ইসমাইলপুরের কৃষক ছয়ফুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‌‘খোলা বাজারে ধানের মণ ১৩০০ টাকার ওপরে। ফলে খোলা বাজারে ধান বিক্রি করে দিয়েছি। গুদামে ধান দিতে গেলে অনেক ঝামেলায় পড়তে হয়। এটা লাগবে ওটা লাগবে, আবার ফ্রেশ ধান লাগবে বলে নানা কথা শোনান গুদামের কর্মকর্তারা। এজন্য ঝামেলায় যাইনি। তবে সরকারি গুদামে যদি ধানের দাম বাড়ানো হয় তাহলে দেবো। বর্তমান যে দাম তাতে আমরা কেন গুদামে ধান দিয়ে লোকসান গুনবো।’

খোলা বাজারে ধানের মণ ১২৮০ থেকে ১৩২০ টাকা, সেখানে সরকার নির্ধারণ করেছে ১০৮০ টাকা উল্লেখ করে হিলির আরেক কৃষক মহসিন আলী বলেন, ‘খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি হওয়ায় গুদামে ধান দিচ্ছি না। আবার খোলা বাজারে ধান বিক্রিতে কোনও ঝামেলা নেই। ধান যেমন-তেমন দিয়ে দেওয়া যায়। এসব ধান বাজারজাত করতে হয় না। ধান মাড়াই শেষে মাঠ থেকেই নিয়ে যান পাইকাররা। অথচ গুদামে দিতে গেলে ধান ১৩ ভাগ শুকনা হতে হয়। পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ দিয়ে গুদামে নিতে হয়। ফলে খরচ বেশি হওয়ায় কম দামে গুদামে ধান দিতে আগ্রহী নই আমরা।’

সরকার যে দাম নির্ধারণ করেছে সে দামে গুদামে চাল দিতে গেলে লোকসান গুনতে হয় দাবি করে পিয়ারবক্স হাসকিং মিলের মালিক আলতাফ হোসেন মন্ডল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতি কেজিতে আমাদের তিন থেকে চার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। বাজারে ধানের দাম বেশি। ১২৮০ থেকে ১৩০০ টাকায় মণ কিনতে হচ্ছে। হিসাবে চালের দাম পড়ে ৪৫ থেকে ৪৬ টাকা। সে জায়গায় সরকার দাম বেঁধে দিয়েছে ৪২ টাকা। এতে লোকসান হয়।’

দুই মাসে এক কেজি ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক মিলার বলেন, ‘চালের দামটা যদি ৪৫ টাকা করা হতো তাহলে লাভ না হলেও লোকসান গুনতে হতো না। তেমনি গুদামে চাল দিতে মিলারদের অসুবিধা হতো না। এখন লোকসান গুনে বাধ্য হয়ে গুদামে চাল দিচ্ছি। না দিলে মিলার লাইসেন্স বাতিল, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ নানা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন খাদ্য কর্মকর্তারা।’

এবার বাজারে ধানের দাম অনেক বেশি, এই দামে ধান কিনে চাল করে সরকার নির্ধারিত দামে গুদামে দিলে লোকসান হয় জানিয়ে দুদু হাসকিং মিলের মালিক মোস্তাফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বড় বড় মিলাররা ধান কিনছেন প্রতিযোগিতা করে। ফলে আমাদের মতো ছোট মিলাররা তাদের কাছে পাত্তা পাচ্ছেন না। আমাদের হিসাবও মিলছে না।’

লোকসান দিতে দিতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে উল্লেখ করে শিরীন হাসকিং মিলের মালিক শামসুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত কয়েক বছর লোকসান দিয়ে সরকারি গুদামে চাল দিয়েছি। গত বোরো মৌসুমে কয়েকজন মিলার সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হননি। এবার আমন মৌসুমেও আমার মতো কয়েকজন মিলার চুক্তিবদ্ধ হননি। কারণ আমাদের হাসকিং মিলে চাল সাঁটার ব্যবস্থা নেই। কিন্তু তারা বলে সাঁটার করে চাল গুদামে দেন। আমাদের নিজেদের মিলে চাল উৎপাদন করে বিরামপুর বা ফুলবাড়ী উপজেলায় নিয়ে সাঁটিয়ে সরবরাহ করতে হবে। এতে লোকসান গুনতে হয়। বাধ্য হয়ে মিল বন্ধ করে দিয়েছি। কারণ এভাবে লোকসান দিয়ে চাল সরবরাহ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।’

দুই মাসে এক কেজি ধানও সংগ্রহ করতে পারেনি খাদ্য বিভাগ

এ অবস্থায় চালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে জানিয়েছেন হিলির খাদ্য গুদামের কর্মকর্তা জোসেফ হাসদা। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত কোনও ধান সংগ্রহ করতে পারিনি। এর কারণ গুদামের চেয়ে খোলা বাজারে ধানের দাম বেশি। ফলে কৃষকরা গুদামে ধান দিচ্ছেন না। তবে আমরা চাল সংগ্রহ শুরু করেছি। মিলারদের বুঝিয়ে চাল নেওয়ার চেষ্টা করছি। এখন পর্যন্ত পাঁচ মিলার থেকে ৫৭ মেট্রিক টন চাল নিয়েছি। যেহেতু ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত সময় আছে, সেহেতু আশা করছি এই সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবো। তবে চালের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও ধানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না।’

/এএম/
সম্পর্কিত
নওগাঁর ‘জিরা ধান’ ঢাকায় গিয়ে যেভাবে হচ্ছে ‘মিনিকেট’ 
আগে স্বাবলম্বী ছিলাম, মন্ত্রী হওয়ার পরে অর্থকষ্টে আছি: ডা. জাহিদ
সরকারের লক্ষ্য জনগণকে জনসম্পদে রূপান্তরিত করা: সমাজকল্যাণমন্ত্রী
সর্বশেষ খবর
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম