পঞ্চগড়ে আহমদিয়া মুসলিম জামাতের ‘সালানা জলসা’কে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তরুণের নাম জাহিদ হাসান (২২)। এর আগে শুক্রবার (৩ মার্চ) দুপুরের দিকে সংঘর্ষ চলাকালে আরিফুর রহমান (২৮) নামের এক তরুণ নিহত হন। তার মাথায় গুলি লেগেছিল। এছাড়াও সংঘর্ষে পুলিশের ৯ সদস্যসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষে দুজন মারা যাওয়ার বিষয়টি রাতে নিশ্চিত করেছেন পঞ্চগড় জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম সিরাজুল হুদা। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’
নিহত জাহিদ আহমদিয়া সম্প্রদায়ের বলে জানা গেছে। তার বাড়ি নাটোরের বনপাড়া এলাকায়। বিক্ষোভকারীরা তাকে করতোয়া নদীর ধারে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সালানা জলসার আহ্বায়ক আহমদ তবশের চৌধুরী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সালানা জলসা বন্ধের দাবিতে পঞ্চগড় শহরে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে বিক্ষোভ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বলে সংস্থাটির জনসংযোগ দফতর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের হামলায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের বেশির ভাগ জায়গায় রাত ১০টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ ছিল না। রাত ১০টার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।
এদিকে আহমদিয়া সম্প্রদায়ের সালানা জলসা ‘অনিবার্য কারণে বন্ধ করা হয়েছে’ বলে শহরে মাইকিং করছে জেলা ও পুলিশ প্রশাসন। মাইকিংয়ে বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। পরে তারা বাড়িঘরে ফিরে যায়।
রাতে শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকার দোকানপাট বন্ধ, রাস্তাঘাট ফাঁকা। তবে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন চলছে। আতঙ্কিত হয়ে বাড়িঘরে ফিরেছেন সাধারণ মানুষ। বিভিন্ন সড়কে টহল দিচ্ছে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
আরও পড়ুন:









