রংপুর সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগরীর তাজহাট থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম শিপলুকে আদালতে তোলা হলে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন বিচারক। শনিবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে রংপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আহাসানুল হক রানা এই আদেশ দেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুপুর ১২টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে শিপলুর পক্ষে জামিনের আবেদন করতে গিয়ে দেখা যায়, তার নামে তিনটি নয়, চার মামলায় আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল। দীর্ঘদিন আগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির হলেও প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন বলে পুলিশ জানায়। পরে তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলে বিচারক তিন মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন এবং চাঁদাবাজির অপর একটি মামলায় কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। দুপুর ৩টার দিকে তাকে প্রিজন ভ্যানে করে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
এদিকে, শুক্রবার দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা ধরে নগরীর বিশ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় অবস্থিত তার বোনের বাড়িতে অবস্থান করাকালে পুলিশ তার বাড়ি ঘেরাও করে রাখলেও নানান নাটক শুরু করেন তিনি। তার সমর্থকরা তাকে গ্রেফতার না করার দাবিতে বিক্ষোভ অবরোধ অব্যাহত রাখেন। অবস্থা বেগতিক দেখে শতাধিক পোশাকধারী ও সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বার বার অনুরোধ করার পরও বাসা থেকে বের হবেন না বলে নানান অজুহাত দিতে থাকেন। পরে পুলিশের গাড়িতে নয়, নিজের প্রাইভেটকারে করে থানায় যেতে সম্মত হলে রাত ১০টা ৫ মিনিটে নিজের গাড়িতে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় আসেন। সেখানে এসে সরাসরি থানার ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, অনেক চেষ্টা করেও তাকে থানা হাজতে নেওয়া যায়নি। ফলে সারারাত ‘জামাই আদরে’ একটি কক্ষে বসে কাটান বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের দুই কর্মকর্তা জানান। এমনকি তাকে হাতকড়াও লাগানো হয়নি। ওই অবস্থায় হাতকড়া ছাড়াই পুলিশের গাড়িতে করে আদালতে যান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি মাহফুজার রহমান জানান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শিপলুর বিরুদ্ধে চারটি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। বিষয়টি জানার পর আদালতের আদেশ থানায় আসার সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা গ্রেফতার এড়াতে ও পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে করা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের ঘটনায় পুলিশ কোনও মামলা রেকর্ড করেছে কি না জানতে চাইলে ওসি ‘না সূচক’ জবাব দেন।









