কুড়িগ্রামের চিলমারীতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলীকে লাঞ্ছিতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার এক ঠিকাদার ও জাসদ নেতার বিরুদ্ধে। ঘটনার প্রতিবাদে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কর্মবিরতি পালন করেছেন অফিসের কর্মচারীরা। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা অফিস চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযুক্ত ঠিকাদারের নাম গোলাম হাবিবুর রহমান বিদ্যুৎ। তিনি জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এই জাসদ নেতা।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলা প্রকৌশলী অফিস কার্যালয়ে একটি মিটিং চলাকালীন ঠিকাদার ও জাসদ নেতা বিদ্যুৎ অফিস কক্ষে গিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও কর্মচারীদের গালিগালাজ শুরু করেন। কর্মচারীরা প্রতিবাদ করলে জাসদ নেতা আরও উত্তেজিত হয়ে উঠেন ও মারমুখি হন। বাধ্য হয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও অন্য কর্মচারীরা অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
ভুক্তভোগী উপজেলা প্রকৌশলী ফিরোজুর রহমান বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে আমি অফিস স্টাফদের নিয়ে একটি জরুরি মিটিং করছিলাম। এ সময় হঠাৎ ঠিকাদার গোলাম হাবিবুর রহমান বিদ্যুৎ একটি কাজের বিল নিয়ে আসেন এবং আমাদের ওপর চড়াও হয়ে গালিগালাজ করতে থাকেন। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে বিষয়টি সমাধান হয়েছে। ওই ঠিকাদার ভুল স্বীকার করে দুঃখপ্রকাশ করেছেন।’
অভিযুক্ত ঠিকাদারের সম্পর্কে ভুক্তভোগী এই প্রকৌশলী বলেন, ‘ওই ঠিকাদার সবসময় অফিসের কাজে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেন। কাজ বুঝে নিতে চাইলে তিনি রেগে যান। কাজ বাস্তবায়নে সাইট ভিজিট করতে চাইলেও সমস্যা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। তিনি সিনিয়র মানুষ বলে আমরা তেমন কিছু বলি না। তবে এবার তিনি সীমা অতিক্রম করেছেন।’
তবে অভিযুক্ত ঠিকাদার ও জাসদ নেতা গোলাম হাবিবুর রহমান বিদ্যুৎ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনও গালিগালাজ করিনি। কাউকে লাঞ্ছিতের ঘটনাও ঘটেনি। আমার একটি কাজের বিলের বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। পরে উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্যরা মিলে সমঝোতা করে দিয়েছেন। আমি কোনও ভুল করিনি, ভুল স্বীকারের প্রশ্নই ওঠে না।’
চিলমারী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রুকুনুজ্জামান শাহীন বলেন, ‘বিষয়টি শুনে উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধান করে দিয়েছি।’









