কোরবানি ঈদের আগেই আদা ও মরিচের দাম বেড়েছে। গত দুই-তিন দিনের ব্যবধানে আদার দাম বেড়েছে কেজিতে ১৩০ টাকা। কাঁচা ও শুকনো; দুই ধরনের মরিচের দামও বেড়েছে অনেক। এতে অস্বস্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা।
রবিবার (২৫ জুন) কুড়িগ্রাম শহরের জিয়া বাজার ও পৌর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, দেশি আদার কেজি খুচরা বিক্রি হচ্ছে ৩৮০-৪০০ টাকা, আমদানিকৃত আদা ৩০০-৩২০ টাকা। কাঁচা মরিচের কেজি ২২০-২৪০ এবং শুকনো মরিচ ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে পাইকারি বাজারে দাম কিছুটা কম। কয়েকদিনের ব্যবধানে এসব পণ্যের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ‘আমদানি কম’ হচ্ছে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
জিয়া বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গত দুই-তিন দিন থেকে আদা ও কাঁচা মরিচের দাম বেড়েছে। আমরা যেভাবে পাইকারি বাজার থেকে কিনে সেই হারে সামান্য লাভ ধরে বিক্রি করি। দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আমাদের হাত নেই। ঈদকে সামনে রেখে আদার চাহিদা বাড়ায় দামও বেড়েছে।’
একই কথা জানিয়েছেন পৌর বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী অলিল। তিনি বলেন, ‘গত তিন দিন আগে আদা পাইকারি ২৩০ টাকা কেজি কিনেছি। রবিবার সেই আদার পাইকারি দাম ৩৪০-৩৬০ টাকা। আমারা সেটা পরিমাণ অনুযায়ী ৩৮০-৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি।’
হঠাৎ দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে অলিল বলেন, ‘পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলতেছেন, আমদানি কম। এ জন্য দাম বেশি।’
জিয়া বাজারে আদা-রসুন কিনতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা লিমন বলেন, ‘আদার দাম অতিরিক্ত। সামনে ঈদ। মাংস তো আদা ছাড়া খাওয়া সম্ভব নয়। মরিচের দামও বেশি। এ অবস্থায় আমাদের মতো নিম্নআয়ের মানুষের অবস্থা বেগতিক। প্রশাসনের বাজার তদারকি করা দরকার।’
রানা নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘আদা, রসুন ও মরিচ; সবকিছুর দাম বাড়ছে। পেঁয়াজের দামও কয়েকদিনের তুলনায় বাড়ছে। মানুষ কীভাবে বাজার করবে? ঈদকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে এসবের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু এসব কে দেখবে। আমাদের তো চলাই মুশকিল হয়ে গেছে।’ একইভাবে ক্ষোভ জানান হাবিব নামে আরেক ক্রেতা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা। একই জাতের কালচে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম। তবে আমদানিকৃত পেঁয়াজের কেজি ৩৫-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। রসুনের দাম কিছুটা কম। মানভেদে দেশি রসুন ১২০-১৬০ টাকা বিক্রি হলেও আমদানিকৃত রসুন বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। তবে দোকানগুলোতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করা হয়নি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাজার তদারকি করছি। পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় করছি।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। প্রয়োজনে অভিযান জোরদার করা হবে। মূল্য তালিকা প্রদর্শনের বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে।’









