ভারতের ‘মরিচের রাজধানী’ গুন্টুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ জুন ২০২৬, ০৯:১৩আপডেট : ০২ জুন ২০২৬, ০৯:১৩

রান্নায় স্বাদ ও ঝাঁজ বাড়াতে কাঁচা কিংবা শুকনা মরিচের জুড়ি মেলা ভার। ভারতের প্রতিটি হেঁশেলেই এর ভূমিকা অনন্য। তবে এই নিত্যদিনের উপাদানটির পেছনে রয়েছে এমন এক অঞ্চলের গল্প, যেখানে মাইলের পর মাইল ফসলের ক্ষেত সবুজ আর লালের আভায় জ্বলজ্বল করে এবং দূর থেকেই বাতাসে মরিচের ঝাঁজ টের পাওয়া যায়। অন্ধ্রপ্রদেশের গুন্টুর শহরটিকেই বলা হয় ভারতের ‘মরিচের রাজধানী’।

ভারতের সবচেয়ে ঝাল মরিচ উৎপাদনের জন্য গুন্টুরের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। বিশেষ করে এখানকার বিখ্যাত গুন্টুর সান্নাম মরিচ মসলা বাণিজ্যের এক অন্যতম বড় চালিকাশক্তি। এই অঞ্চলের অনন্য মাটি ও আবহাওয়া মরিচ চাষের জন্য দারুণ উপযোগী, যার কারণে এখান থেকে বিশ্বজুড়ে মরিচ রফতানি করা হয়। গুন্টুরকে এই অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পেছনে মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে:

গুন্টুর চিলি মার্কেট ইয়ার্ড: এটি এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ মরিচ বাণিজ্য কেন্দ্র। চাষের মৌসুমে প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষক এখানে আসেন। দেশ-বিদেশের ক্রেতাদের আনাগোনায় এই বাজারটি হয়ে ওঠে মরিচ অর্থনীতির হৃৎস্পন্দন।

অনুকূল আবহাওয়া ও মাটি: এখানকার গরম, শুষ্ক আবহাওয়া এবং উর্বর জমি মরিচ চাষের জন্য একদম উপযুক্ত।

বিখ্যাত গুন্টুর সান্নাম: এই মরিচ মূলত চমৎকার লাল রং, কড়া সুবাস এবং সুষম ঝালের জন্য পরিচিত। আচার, গুঁড়া মসলা ও মিশ্র মসলায় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

বিশ্বজুড়ে চাহিদা: এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গুন্টুরের মরিচ রফতানি করা হয়।

ভারতের ‘মরিচের রাজধানী’ গুন্টুর

প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা ঐতিহ্যবাহী চাষাবাদ পদ্ধতি, উন্নত সেচ ব্যবস্থা ও বাজার অবকাঠামো নির্মাণে সরকারি সহায়তা, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও হিমাগার এবং রফতানি-বান্ধব নীতিমালার কারণেই গুন্টুর স্থানীয় বাজার থেকে বিশ্বমঞ্চে পৌঁছেছে।

ঝালপ্রেমীদের জন্য গুন্টুরে গিয়ে ৫টি অভিজ্ঞতা নেওয়া দারুণ হতে পারে। প্রথমত, বস্তা বস্তা মরিচে ঠাসা গুন্টুর চিলি ইয়ার্ডের ব্যস্ত বাণিজ্য সশরীরে দেখা। দ্বিতীয়ত, মরিচ খেতে হেঁটে চাষিদের কাছ থেকে চাষের গল্প জানা। তৃতীয়ত, স্থানীয় ঝাল চাটনি ও কারির আসল স্বাদ নেওয়া। চতুর্থত, স্থানীয় দোকান থেকে খাঁটি ও উজ্জ্বল রঙের গুন্টুর মরিচের গুঁড়া কেনা। এবং পঞ্চমত, মরিচ শুকানোর চাতালগুলো দেখা, যেখানে রোদের নিচে মাইলের পর মাইল বিছিয়ে রাখা লাল মরিচ দেখে মনে হয় যেন কোনও লাল গালিচা পেতে রাখা হয়েছে!

গুন্টুর ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস। এই সময়ে সেখানকার আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে, যা বাজার ও খেত খামার ঘুরে দেখার জন্য চমৎকার। তবে গ্রীষ্মকালে এখানকার গরম প্রচণ্ড থাকে এবং বর্ষাকালে ভারী বৃষ্টির কারণে ভ্রমণ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

সূত্র: এনডিটিভি

 

/এএ/
সম্পর্কিত
পাসপোর্ট সূচকে ৩ ধাপ এগিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ
‘সময় নষ্ট করবেন না’, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগ নিয়ে আবেদন নাকচ সুপ্রিম কোর্টের
সিজেপির বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি, বন্ধ ১৬ মেট্রো স্টেশন
সর্বশেষ খবর
জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: মন্ত্রণালয়
জ্বালানি তেল নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে: মন্ত্রণালয়
ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে মার্কো রুবিও’র সাক্ষাৎ
ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে মার্কো রুবিও’র সাক্ষাৎ
আরও সহজ হলো ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন
আরও সহজ হলো ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন
ফের নতুন মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি পাভেল  
ফের নতুন মামলায় গ্রেফতার সাবেক এমপি পাভেল  
সর্বাধিক পঠিত
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
আর্জেন্টিনার জার্সি পরে ভাইরাল, সেই রুনা ডিবির হাতে গ্রেফতার
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
গুজবে তেলের পাম্পে দীর্ঘ লাইন, ট্যাংকি ভর্তি করার হিড়িক, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
জামায়াত এমপির বিয়ে আর কাবিনের গোমর ফাঁস করে দিলেন কাজী
চাকরি হারালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রেফতারে চলছে অভিযান
চাকরি হারালেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা, গ্রেফতারে চলছে অভিযান
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু
শিক্ষার্থীদের রেলপথ অবরোধের মুখে টিটিই বরখাস্ত, ৮ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল শুরু