প্রধানমন্ত্রীকে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ ফিরিয়ে দিয়ে প্রতিবাদ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০১:৫০আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৬, ০১:৫৩

লালমনিরহাটের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল আলম সরকারকে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদ ফিরিয়ে দিচ্ছেন মাহফুজার রহমান চাকরি না পেয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র রাষ্ট্রের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন মাহফুজার রহমান নামে লালমনিরহাটের শারীরিক প্রতিবন্ধী এক ব্যক্তি।
বুধবার বিকেলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর মাহাফুজার রহমান লিখিত একটি আবেদনপত্রসহ তার শিক্ষা জীবনের অর্জিত সব সনদপত্র জমা দেন। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল আলম সরকার সনদগুলো গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের রতিপুর এলাকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. সৈয়দ আলীর ছেলে মাহাফুজার রহমান। জন্ম থেকেই তার ডান হাত সম্পূর্ণভাবে অবস। শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী হলেও স্কুল জীবন থেকেই লেখাপড়ায় মেধাবী ছিলেন মাহাফুজার। উত্তারাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রংপুর কারমাইকেল বিশ্বদ্যিালয় কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে সম্মান ও পরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ২০১৩ সালে সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে প্রতিবন্ধী কোটায় নিয়োগ পরীক্ষা দেন। তার  রোল নম্বর ছিল ১৩২০। লিখিত পরীক্ষায় জেলার ৫টি উপজেলার ৪৫ জন প্রার্থী উত্তীর্ণ হন। উত্তীর্ণদের মধ্যে একমাত্র প্রতিবন্ধী হিসেবে মাহাফুজার রহমানের নামও ছিল। এরপর মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিলেও তিনি নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন।
মাহফুজার রহমান ও তার স্ত্রী-ছেলে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, ওই নিয়োগে প্রতিবন্ধী ছাড়া অন্যান্য সব কোটা পূরণ করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৪৫ জনের মধ্যে ১৩ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময়ে মাহফুজারের বয়স ছিল ৩৩ বছর এবং বর্তমানে তার বয়স ৩৬ বছর।ডান হাত অক্ষম হওয়ার কারণে বর্তমানে সরকারি চাকরি তো বটেই এমনকি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও তার পক্ষে চাকুরি পাওয়া সম্ভব নয়। জীবিকা নির্বাহে সম্বল বলতে তার আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এর আগে তিনি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, সোনালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংকসহ সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির আবেদন করেও চাকরি পাননি। শিক্ষাগত যোগ্যতা আর প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইনে কোটা পূরণের বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও নিয়োগ বঞ্চিত হওয়ায় তিনি এখন সমাজের বোঝা স্বরূপ বলে দাবি করেন। তার স্ত্রী নাসরিন নাহার লাকিও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী শিক্ষিত বেকার। তিনিও বিভিন্ন দফতরে চাকরির আবেদন করলে তারও কোন চাকুরি হয়নি। তাদের দুই বছর বয়সী লামীম নামের একটি ছেলে রয়েছে। জীবনের মাঝামাঝি বয়সে এসে সরকারি চাকরির মেয়াদ না থাকায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে তিনি নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রগুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা রাষ্ট্রের কাছেই জমা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে মাহফুজার সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবন্ধী কোটা পূরণ সাংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সেই আইন মানা হয়নি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অংশ হিসেবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদপত্র সরকারের কাছে জমা দিয়েছি।’

লালমনিরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রেজাউল আলম সরকার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাহাফুজার রহমান নামে এক ব্যক্তি তার শিক্ষাগত যোগ্যতার সব সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানোর জন্য আমার কাছে জমা দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান আসার পর এসব সনদপত্র প্রধানমন্ত্রী বরাবর পাঠানো হবে।’

/এসএম/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান