পল্লী চিকিৎসকের অপচিকিৎসায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের চকবরুল গ্রামের নূরজাহান খাতুন (১৭) নামের এক কিশোরী গৃহবধূ শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
তবে আশ্চর্য হলেও সত্য, অপচিকিৎসার ঘটনা ঘটার পরেও কিশোরীর পরিবার পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ আনেনি বরং প্রতিবেশীদের মাধ্যমে খবর পেয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে, ওই পল্লী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাইবান্ধা সদর থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাশ্ববর্তী সাঘাটা উপজেলার পদুমশহর গ্রামের আমিরুল ইসলামের স্ত্রী নূরজাহান খাতুন কিছুদিন আগে চিকিৎসার জন্য বাবার বাড়ি চকবরুল গ্রামে আসেন। নূরজাহানের বাবা আব্দুল খালেক মেয়ের চিকিৎসার জন্য গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের সিংড়া মধ্যপাড়া গ্রামের পল্লী চিকিৎসক সিরাজুল ইসলামের শরণাপন্ন হন। সিরাজুল ইসলাম সোমবার আব্দুল খালেকের বাড়িতে যান। তিনি নূরজাহানকে বাড়ির আঙিনায় অপারেশনের কাজ শুরু করেন। দুইজন নূরজাহানকে ধরে থাকেন, যাতে তিনি নড়াচড়া করতে না পারেন। পরে চিকিৎসক নূরজাহানের জিহ্বা টেনে ধরে কাঁচি দিয়ে টনসিল অপারেশন করেন। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার উপ-পরিদর্শক রাকিব ওইদিন দুপুর দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। তখন মেয়েটির মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
উপ-পরিদর্শক রাকিব জানান, কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ না থাকায় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।
এদিকে, বুধবার বিকেলে চকবরুল গ্রামে ওই কিশোরীর বাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, টিনশেড ঘরের বিছানায় শয্যাশায়ী নূরজাহান খাতুন। তার হাতে স্যালাইন টানানো। যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে তার মা বেলী বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে এগিয়ে আসেন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমার মেয়ে ভাল আছে। ডাক্তার বলে গেছেন, ওর সঙ্গে কথা না বলতে। আপনারা কেন এসেছেন। চলে যান।
এ সময় জানতে চাইলে নূরজাহানের শাশুড়ি বললেন, নূরজাহানকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ডাক্তার সিরাজুল নিয়ে যেতে দেননি। তিনি বলেন, বাড়িতেই ভালো হবে।
বিষয়টি গাইবান্ধার পুলিশ সুপার মো. আশরাফুল ইসলামকে অবগত করা হয়। পুলিশ সুপারের নির্দেশে বুধবার বিকেলে গাইবান্ধা সদর থানার উপ-পরিদর্শক রাকিবের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নূরজাহানকে উদ্ধার করে বুধবার সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে গাইবান্ধার সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু চৌধুরী অসুস্থ নুরজাহানের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
বুধবার রাত ৮টায় সিভিল সার্জন বলেন, আমি অসুস্থ নূরজাহানকে দেখেছি। তার পুরো অপারেশন সম্পন্ন হয়নি। টনসিলের ওপরের অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এভাবে অপারেশন করা আইন পরিপন্থী ও অমানবিক। ওই চিকিৎসক নামধারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পল্লী চিকিৎসক সিরাজুল ইসলামের কাছে অপারেশন করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে বলেন, আমি অনেকদিন ধরে এসব কাজ করছি। কোনও সমস্যা হয়নি। অনেক রোগী ভালো হয়েছে। সার্জারি বিভাগে আপনার পড়াশোনা কিংবা সনদপত্র আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে সিরাজুল ইসলাম কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর বলেন, নেই। আমাকে সবাই ডাকে, তাই যাই।
/বিটি/টিএন/








