রংপুরে পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুরে এক গৃহবধূকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত শুভর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম। পুলিশ বলছে, আসামিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বজনদের অভিযোগ, আসামি মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদর্শন করছে।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ জুন রাতে পীরগঞ্জ উপজেলার মিঠিপুর ইউনিয়নে ভুক্তভোগী ওই নারী রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে বাইরে ওয়াশরুমে যাওয়ার জন্য বের হন। এসময় একই গ্রামের শাহাজাহান মিয়ার ছেলে ইয়াছিন আরাফাত শুভ অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মুখ চেপে ধরে বাড়ির পাশে একটি মাটির ঘরে নিয়ে যায়। এসময় ভিকটিম গৃহবধূকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করে আসামি শুভ।
একপর্যায়ে ওই গৃহবধূর চিৎকারে তার স্বামী লাভলু মিয়াসহ স্বজনরা এগিয়ে আসলে ধর্ষক ইয়াসিন আরাফাত শুভ তাদেরও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যায়। এ ঘটনায় ধর্ষিতা গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় ধর্ষক ইয়াসিন আরাফাত শুভকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
এদিকে বিষয়টি জানাজানি হলে জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, এ ঘটনায় ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে।
এ ব্যাপারে রংপুর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তানিম আহসান চপলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। যেহেতু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে, তাই পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।’
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এসএম সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আমরা আদর্শের জায়গা থেকে ছাত্র রাজনীতি করি। ছাত্রলীগে কোনও অপরাধীর ঠাঁই নেই। বিষয়টি আরও ভালোভাবে জেনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে অবহিত করে পরবর্তী সময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পীরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আসামিকে গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে, তাকে এখনও পাওয়া যাচ্ছে না।’
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা দায়ের হওয়ার পর থেকে আসামি পলাতক। তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তাকে গ্রেফতারের জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।‘
এদিকে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, আসামি ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হওয়ায় তাকে গ্রেফতার করার ব্যাপারে পুলিশের তেমন কোনও উদ্যোগ তারা দেখতে পাচ্ছেন না। ইতোমধ্যে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে তাদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।








