এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের টাপুরচর বালুরগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক ও আয়া পদে গোপন নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি। মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয় কার্যালয়ে জরুরি সভা ডেকে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজ্যুলেশনে স্বাক্ষর করের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চাঁন মিয়া ও প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণীসহ সদস্যবৃন্দ। পরে ফটকের তালা খুলো দেন আন্দোলনকারীরা। প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ২২ অক্টোবর গোপন নিয়োগ বাতিলের দাবিতে এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা স্কুলের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন। তারা প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগও দেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির যোগসাজশে অফিস সহায়ক ও আয়া পদে গোপনে নিয়োগ দেন। মোটা অংকের টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষককের শ্যালিকা মর্জিনা বেগমকে অফিস সহায়ক পদে এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত মিতু রাণীকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চাঁন মিয়া গোপনীয়তার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও সে তথ্য ১১ মাস পর সম্প্রতি ফাঁস হয়। এরপর থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক-কর্মচারীরাসহ এলাকাবাসী নিয়োগ বাতিলের দাবিতে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপরও নিয়োগ বাতিল না হওয়ায় আন্দোলন অব্যাহত রাখেন তারা। লাগাতার আন্দোলনের মুখে স্থানীয় প্রশাসন নিয়োগ বাতিলের বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষককে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে জরুরি সভা ডেকে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয় ম্যানেজিং কমিটি।
তবে রেজ্যুলেশনে নিয়োগ বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০২২ সালের ৯ ডিসেম্বর আয়া ও অফিস সহায়ক পদে চতুর্থ শ্রেণির দুই জন কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ করা হয়। নিয়োগে কর্মচারী দুই জনের পদবী নির্ধারণ ত্রটিপূর্ণ হওয়ায় তাদের বেতন-ভাতার জন্য আবেদন করা যাচ্ছে না। বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা-পর্যালোচনা করে সর্বসম্মতিক্রমে পদ দুটির নিয়োগ বাতিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো।’ সভায় এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করা হয়।
এ বিষয়ে জানতে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি চাঁন মিয়াকে কল দিলে তার মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।
সভায় উপস্থিত অভিভাবক সদস্য আশরাফ আলী বলেন, ‘সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতিতে দুই পদে নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়ে রেজ্যুলেশন হয়েছে। আমরা তাতে সবাই স্বাক্ষর করেছি। পরে স্কুল গেটের তালা খুলো দিয়েছেন এলাকাবাসী।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আব্দুল গণী বলেন, ‘এলাকাবাসীর সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। আজ সেটা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ের সিদ্ধান্ত জেলা অফিসে খোঁজ নিলে জানতে পারবেন।’







