টেন্ডার জমাদানে বাধা দেওয়ায় যুবদল নেতা আটক, ‘আপসযোগ্য’ বলছেন জেলা সভাপতি

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
৩০ অক্টোবর ২০২৪, ১৯:১৩আপডেট : ৩০ অক্টোবর ২০২৪, ১৯:১৩

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের দরপত্র (টেন্ডার) জমাদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগে পৌর যুবদল আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম জুলহাসকে (৪০) আটক করেছেন সেনাসদস্যরা। বুধবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে সদর হাসপাতাল চত্বর থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন সেনাসদস্যরা।

আটক জাহাঙ্গীর আলম জুলহাস লালমনিরহাট শহরের টিউমলপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি লালমনিরহাট পৌর যুবদলের আহ্বায়ক ও জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রোগীদের পথ্যসামগ্রী সরবরাহসহ ৩টি গ্রুপে সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য দরপত্র আহ্বান করেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুল মোকাদ্দেম। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বুধবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টার মধ্যে তত্ত্বাবধায়কের কার্যালয়ের নির্দিষ্ট বাক্সে দরপত্র জমা দিতে বলা হয়।

হাসপাতালের দরপত্র জমাদানে যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দরপত্র বাক্স এবং হাসপাতাল চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করে পুলিশ। সেই নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিতে সকাল থেকে অন্যদের দরপত্র জমাদানে বাধা দিয়ে আসছিলেন জাহাঙ্গীর আলম জুলহাস। এ সময় দরপত্র গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকেও লাঞ্ছিত করেন তিনি। অন্য দরদাতারা দরপত্র জমাদান করতে না পেরে সেনাসদস্যদের খবর দেন। খবর পেয়ে সেনাসদস্যরা এসে ধাওয়া দিয়ে যুবদল নেতা জুলহাসকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ হলে ২৪ জন দরদাতা তাদের দরপত্র জমা দেন।

লালমনিরহাট জেলা যুবদলের সভাপতি আনিছুর রহমান আনিছ বলেন, ‘পৌর যুবদল আহ্বায়ক জুলহাস দৌড়ে পালানোর কারণে তাকে আটক করেছে। এটি মূলত আপসযোগ্য বিষয়।’

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক(উপপরিচালক) আব্দুল মোকাদ্দেম বাংলা ট্রিউনকে বলেন, ‘হাসপাতালের টেন্ডার বাক্স জমা নিয়ে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে। এতে সেনাবাহিনীর ভিজিটিং টিম একজনকে আটক করেছে। এ সময় পুলিশ ছিল। হাসপাতালের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ ও সেনাসদস্যদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ আছে। ফুটেজ একটা বড় প্রমাণ।’

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল কলও রিসিভ করেননি।

লালমনিরহাট পুলিশ সুপার (এসপি) তরিকুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।’ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ধরেছে, এমন প্রশ্নে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সেনাবাহিনী একজনকে আটক করেছে। আমি আমার ওসিকে বলেছি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন, যদি অপরাধী হয় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।’

/কেএইচটি/
সম্পর্কিত
লালন আখড়ায় হামলা চালিয়ে সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, বিএনপি নেতা আটক
সড়কে প্রাণ হারালেন যুবদল নেতা
জেনেভা ক্যাম্পে অভিযান, আটক ১৬
সর্বশেষ খবর
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের