জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের ‘প্রথম সারির’ সংগঠকদের বাদ দিয়ে ‘দলছুট, অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত ও আন্দোলনে অংশ না নেওয়া অছাত্রদের’ দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা বৈষ্যমবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটি গঠনের অভিযোগ তুলে এই কমিটির বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন জেলাটির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৮ ডিসেম্বর) আগে সকাল থেকেই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সমবেত হয়। সেখান থেকে দুপুরে একটি বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে তারা সমাবেশ করেন।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে কেন্দ্র থেকে দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটি সম্পূর্ণ অযাচিত ও অযৌক্তিক। এই কমিটি শিবিরের আদলে তৈরি করা এবং কমিটি তৈরিতে হস্তক্ষেপ করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য আতিক মুজাহিদ। ফলে শিবিরের রাজনীতিতে সরাসরি যুক্তরা কমিটির মূল মূল পদে স্থান পেয়েছেন। এ ছাড়াও শিবিরের অনেকে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িত ছিল তারা ও অন্য ছাত্রলীগের সদস্যরাও বিভিন্ন পদ লাভ করেছেন। তারা আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন সুবিধাভোগ করেছেন।
এসময় ঘোষিত কমিটির নেতাদের নানান অভিযোগও তোলেন বক্তারা। তারা বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির কুড়িগ্রামের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ নাহিদ আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন না। তিনি ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, পরে ছাত্র শিবিরের কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ শাখার অফিস বিষয়ক সম্পাদক পদে রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি এখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কমিটির কুড়িগ্রামের আহ্বায়ক।
তাদের অভিযোগ, আন্দোলনে নামতে অস্বীকৃতি জানানো শিক্ষার্থীরাও এখন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন। কুড়িগ্রামে অবস্থান করেননি, এমনকি বিদেশে অবস্থান করেছেন এমন ব্যক্তি, শিক্ষাজীবন শেষ করেছেন এমন অছাত্রদের নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন, কমিটি গঠনের সময় শিবিরের ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্তরা মূল মূল দায়িত্বে থাকছেন সংবাদ জেনে প্রকৃত আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রকে অবহিত করেছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটিতেও তাদের লোকজনের সহায়তায় মূল আবেদনকারীদের বাদ দিয়ে কমিটি ঘোষণা করা হয়। তাই আন্দোলনকারী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই কমিটিকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সমাবেশে এসে কমিটিতে স্থান পাওয়া দুই সদস্য শিপন সরকার ও আশরাফুল আলম চমক তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। অবিলম্বে এই কমিটি বাতিল করে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত আন্দোলনকারীদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করার দাবি জানান তারা।
সমাবেশে বক্তব্য দেন, শিক্ষার্থী শিপন সরকার, আশরাফুল আলম চমক, কুড়িগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের আল আকসা সৌখিন, কুড়িগ্রাম সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব শাহী, কুড়িগ্রাম সরাকরি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্ষণ বেনজির সিদ্দিক আয়াত ও জান্নাতুল ফেরদৌস মিম প্রমুখ।









