বন্ধ থাকা কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলস প্রাইভেট পার্টনারশিপ পলিসির (পিপিপি) মাধ্যমে চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর ফলে প্রায় ১৭ বছর পর জেলায় কর্মসংস্থানের পথ খোলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে মিলসটি বেসরকারি খাতে দেওয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এর সাবেক শ্রমিক-কর্মচারীরা। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ করা হয়।
‘কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলস সকল শ্রমিক কর্মচারীবৃন্দ’ ব্যানার নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলসকে পিপিপিতে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিটিএমসির নিয়ন্ত্রণে পুনরায় সরকারিভাবে চালুর দাবি জানান। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের চেয়ারম্যান, বিটিএমসি কেন্দ্রীয় কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন দফতরে স্মারকলিপি দেন তারা।
তবে টেক্সটাইল মিলস কর্তৃপক্ষ বলছে, উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলস ‘ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। আগামী ২২ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে মিলস চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি ও হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বেসরকারি খাতের মাধ্যমে টেক্সটাইল মিলসটি চালুর উদ্যোগ বিটিএমটির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। ফলে ২০০৭ সাল থেকে বন্ধ থাকা মিলসটি পুনরায় চালু হবে। এতে জেলার শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের পথ খুলে যাচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করছেন তারা না বুঝে করছেন।
পিপিপির আওতায় মিলস চালুর প্রতিবাদ জানিয়ে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুড়িগ্রাম দেশের উত্তরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত জেলা। ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সরকার এই অঞ্চলের বেকার সমস্যা দূরীকরণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে মিলসটি স্থাপন করে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় হাজারো শ্রমিক-কর্মচারী বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এটি পুনরায় চালু হলে এই অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ও নদীভাঙনের শিকার খেটে খাওয়া মানুষের স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে সেটি তখনই হবে যখন সরকারি খাতে থাকবে।
কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আব্দুল বাতেন বলেন, ‘স্বার্থ হাসিলের জন্য মিলটির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দেয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকার। এখন সরকারি মিলটিকে বেসরকারি করার পাঁয়তারা চলছে। বিগত আওয়ামী সরকারের তাঁবেদারদের স্বার্থ হাসিলের জন্য জেলার বৃহৎ ও একমাত্র শিল্পকারখানাটি বেসরকারি খাতে দেওয়ার সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। বিগত সরকারের এমন সিদ্ধান্ত থেকে বর্তমান সরকারকে সরে আসার দাবি জানাই।’
কুড়িগ্রাম টেক্সটাইল মিলসের প্রধান নির্বাহী এবং ইনচার্জ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বন্ধ থাকা মিলসটি বেসরকারি খাতের মাধ্যমে চালুর উদ্যোগ বিটিএমসির যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এর ফলে শুধু বন্ধ থাকা মিলসের দ্বার খুলছে না, জেলার শত শত মানুষের কর্মসংস্থানের পথ খুলে যাচ্ছে। এই উদ্যোগকে জেলার সর্বস্তরের মানুষের স্বাগত জানানো উচিত। যারা প্রতিবাদ করছেন তারা না বুঝে করছেন।’
টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মিলসটি ‘ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং’ নামের প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া ভিত্তিতে হস্তান্তর করা হচ্ছে জানিয়ে ইনচার্জ আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘মিলসটি বন্ধ হওয়ার আগে এখানে প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ শ্রমিক কাজ করতেন। কিন্তু দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। এখন চালু হলে আরও বেশি শ্রমিক কাজের সুযোগ পাবেন। শ্রমিকরা হবেন এই জেলার। ফলে জেলার আর্থ-সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনের আবারও সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। মিলস ঘিরে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।’








