১২ বছর আগে চুরি হওয়া সন্তানকে ফিরে পেতে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন মা!

বগুড়া প্রতিনিধি
০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৯:০৬আপডেট : ০৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১৯:০৬

বগুড়া শহরের ক্লিনিক থেকে নার্স ও চিকিৎসকের সহায়তায় ছেলে আহসান হাবিব চুরি হয়েছে দাবি করে তাকে ফিরে পেতে মা ইতালির নাগরিক তাজমিনা আক্তার এক যুগ ধরে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ছেলেকে ছাড়া প্রবাসেও যেতে পারছেন না। ছেলেকে ফিরে পেতে কয়েক দফা কারাভোগও করেছেন। প্রশাসন তাকে ‘নিজ সন্তানকে’ ছিনতাইয়ের অপরাধে জেলেও পাঠিয়েছে।

সর্বশেষ বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে বগুড়া শহরের সাতমাথায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করছেন। তিনি সন্তানকে ফিরে পেতে সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার শালুকগাড়ি গ্রামের ইতালি প্রবাসী হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী তাজমিনা আক্তার লিখিতভাবে জানান, তিনি ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই বগুড়া শহরের নূরানী মোড় এলাকায় আইভি ক্লিনিকে দুটি যমজ সন্তান প্রসব করেন। একটি ছেলে ও একটি মেয়ে। ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তার ছেলেকে চুরি করা হয়। তাকে বলা হয়, ছেলে সন্তানটি মৃত; তাকে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর ছেলেকে গাবতলী উপজেলার ঈশ্বরপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের কাছে বিক্রি করা হয়। পরে উপজেলার নেপালতলি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চুরি যাওয়া ছেলের সন্ধান পান। স্থানীয়ভাবে সালিশ করেও ছেলে ফিরে পেতে ব্যর্থ হন।

তিনি জানান, এরপর নেপালতলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সহায়তায় গত ২০১৯ সালে বগুড়ার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত ডিএনএ পরীক্ষার আদেশ দেন। তাকে ২০১৯ সালের ২৫ মার্চ থেকে দুই দিন কারাগারে রাখা হয়। সেখান থেকে ঢাকার কাশিমপুর কারাগারে চালান দেওয়া হয়। সাতদিন রাখার পর ডিএনএ করার পর বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়। বগুড়া কারাগারে একদিন থাকার পর জামিন লাভ করেন। তিন মাস পর ডিএনএ রিপোর্টে পজিটিভ আসে। কিন্তু ডিএনএ রিপোর্ট জালিয়াতি করে নেগেটিভ করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তাজমিনা আক্তারের নারাজি দিলে পুনরায় ডিএনএ করার জন্য ২০ হাজার টাকা জমা নেওয়া হয়। ডিএনএ করানোর জন্য গত ২০২২ সালের ৯ জানুয়ারি তাকে আবারো বগুড়া কারাগারে নেওয়া হয়। পরদিন তাকে ঢাকার ডিএনএ কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওই কার্যালয় থেকে জানানো হয়, আগের রিপোর্ট পজিটিভ। তাকে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হলে জামিন লাভ করেন। ডিএনএ পজিটিভ রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়ে ছেলে ফিরে পেতে আবেদন করেন। কিন্তু আদালত থেকে তাকে বাচ্চার পরিবর্তে পিটিশন ও রিপোর্ট ফেরত দেওয়া হয়।

তার দাবি, নিরুপায় হয়ে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন। ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর বিচারপতিরা তার পক্ষে আদেশ দেন ও আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। এরপর ১৪ ডিসেম্বর বগুড়ার আদালতে হাজির হন। বিচারক নথিতে নেগেটিভ রিপোর্ট দাখিল করেন। পরে তার আইনজীবী ডিএনএ অফিস থেকে পজিটিভ রিপোর্ট সংগ্রহ করেন। এতেও লাভ হয়নি। বগুড়ার দ্বিতীয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সাবেক স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন, আইভি ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ও অনেকে জালিয়াতি করেছেন। আদালতের পক্ষ নিয়ে তার আইনজীবী রনি তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখান। এ ছাড়া জজ কোর্টের আইনজীবীকেও হুমকি দেন। তাকে না জানিয়ে হাইকোর্টে রিট মামলাটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

এই নারী আরও দাবি করেন, এত হয়রানির পরও বাচ্চা ফিরে না পাওয়ায় তাজমিনা আক্তার হতাশ হয়ে পড়েন। গত ৩১ অক্টোবর বগুড়া জেলা পরিষদের সামনে থেকে চুরি করা ছেলেকে আসামির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ছেলে বাসায় এক সপ্তাহ থাকার পর আসামিপক্ষের দালাল মতিয়ার রহমান, বাবলু, রফিক, ডা. আমিনুল ইসলাম, আমজাদ হোসেন লুদুর সহযোগিতায় সদর থানা পুলিশ বাচ্চাসহ তাকে (তাজমিনা) গ্রেফতার করে। এরপর সদর থানা পুলিশ তার ছেলেকে আসামিদের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তার বোরকা, হিজাব ও ওড়না খুলে নিয়ে সারা রাত মেঝেতে রাখে। নিজ সন্তানকে অপহরণের অপরাধে ৭ নভেম্বর তাকে আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেল হাজতে পাঠানো হয়। ১৫ দিন জেলে থাকার পর ১৩ নভেম্বর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিসকেস করেন। ২০ নভেম্বর বগুড়া জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির ডিএনএ রিপোর্ট দেখার পর তাকে জামিন দেন।

তাজমিনা আক্তার আরও জানান, ছেলেকে ফিরে পেতে গত ১২ বছর অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছেন। তার পুরো পরিবার ইতালির নাগরিক। শুধু ছেলেকে ফিরে পাওয়ার জন্য প্রবাসে যেতে পারছেন না। কয়েক দফা কারাভোগ করেছেন। তিনি তার চুরি হওয়া সন্তান দ্রুত ফিরিয়ে পেতে প্রধান উপদেষ্টা ও জনগণের সহযোগিতা
কামনা করেছেন।

/এফআর/
সম্পর্কিত
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোনের তার চুরি, গ্রেফতার ২
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী