প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘আগামী মাস থেকে কৃষক কার্ড দেওয়ার পাইলট প্রকল্পের কাজ শুরু করবো। দেশের কৃষিকে শক্তিশালী ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে চাই। বাংলাদেশ বিরাট দেশ, ২০ কোটি মানুষ এই দেশে। এই মানুষগুলোর খাবার বিদেশ থেকে আনা সম্ভব নয়। কৃষির উৎপাদন বাড়িয়ে মৌলিক খাবার দেশে উৎপাদন করতে হবে। বাংলাদেশে অনেকগুলো বড় বড় কোম্পানি আছে, যারা কৃষি সংক্রান্ত দ্রব্য নিয়ে মিল-ফ্যাক্টরি তৈরি করেছে। কৃষিকাজের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ভাইবোনদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে ঈদের পরে সেসব কোম্পানির সঙ্গে আমি বসবো। নির্বাচনি যেসব ওয়াদা তা সবগুলোই পূরণ করবো।’
সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর গ্রামে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন।
দেশে খাল খননের গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে গেছে, ফলে পানির অভাবে চাষাবাদ করা যায় না। আমরা বর্ষার পানিকে কৃষিকাজে ব্যবহার করতে চাই, তখন যা পাওয়া যাবে, সেটাকে ধরে রাখতে চাই। এতে কৃষকরা উপকৃত হন। আগামী ৫ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। যেটা আজ সাহাপাড়া থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সাহাপাড়া খালটি সম্পূর্ণভাবে খননকাজ শেষ হলে ৩১ হাজার কৃষক সেখান থেকে পানি নিয়ে প্রায় ১২ শ হেক্টর জমি সেচসুবিধার আওতায় আনতে পারবে। সাড়ে তিন লাখ মানুষ এই খালের পানির সুবিধা পাবে। শুধু তা ই নয়, কৃষকরা প্রায় ৬০ হাজার টন বেশি ফসল উৎপাদন করতে পারবে।’
ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমানোর তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খালে পানি না থাকায় আমাদের গভীর নলকূপের মাধ্যমে মাটির নিচ থেকে পানি তুলতে হয়। ১০ বছর আগে যতটুকু গভীরতায় পানি মিলত, তবে এখন আরও বেশি গভীরতায় পানি পেতে হয়। এভাবে ভূগর্ভস্থ পানি কমে গেলে বিপদে পড়তে হবে। এজন্য মাটির ওপরের পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। খাল-নদী খনন করে সেই পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।’
শিগগিরই সব পরিবারের মধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৭ হাজার মা-বোনের কাছে এটি পৌঁছে দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে রংপুর অঞ্চলের সবার কাছে এটি পৌঁছে দেওয়া হবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। তারপর আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, সেই কাজগুলো শুরু করেছি। কৃষক ভাইদের জন্য যেভাবে সুদ মওকুফ করেছি, মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছি, একইভাবে কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড পৌঁছে দেবো, যা আগামী মাস থেকে চালু হবে।’
উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক শিল্পকারখানা গড়ে তোলার আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উত্তরাঞ্চল কৃষিপ্রধান এলাকা। দেশের অনেক বড় কোম্পানি কৃষি দ্রব্য নিয়ে মিলকারখানা করেছে। এই এলাকায় কৃষিনির্ভর মিলকারখানা গড়ে তুলোর কাজ চলছে, যাতে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়কমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ত্রাণ ও দুর্যোগমন্ত্রী আসাদুল হাবীব, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুরের তিনটি আসনের সংসদ সদস্যরা। সমাবেশে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জেলার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ।
প্রধানমন্ত্রী আজ দিনাজপুর শহরে ফরিদপুর কবরস্থানে নানা-নানিসহ আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন। বিকালে শহরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে দিনাজপুরের সুধী সমাবেশ ও ইফতার এবং দোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন। সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় দিনাজপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।









