গাইবান্ধা সদর উপজেলার মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শৌচাগার নির্মাণকাজে লোহার রডের পরিবর্তে চিকন বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগের পর ওই ঠিকাদারের নির্মাণাধীন আরও সাতটি স্কুলে শৌচাগারের কাজ তদন্তে সোমবার আরও একটি তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্কুলগুলো হল গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুপতলা ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিনদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেংগরজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাধাকৃষ্ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বোয়ালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোবিন্দপুর (পলাশ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের এই নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটিতে গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলামকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহজাহান আলী ও সাদুল্লাপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইনছার আলী। সাত দিনের মধ্যে কমিটি সরেজমিন তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর আগে গত রবিবার এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামকে আহবায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এদিকে, জেলায় আরও ২৭৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মিত ওয়াশব্লক নির্মাণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করার দাবি উঠেছে। এছাড়া ওই কাজের তদারকির দায়িত্বে নিয়োজিত কমকর্তা গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আরিফ বিল্লাহর বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত বিভাগীয় কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাই। ওই দফতরের সাইফুল ইসলাম নামে এক নলকূপ মেরামতকারীকে কারণদর্শাও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে, বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মিডিয়াকর্মী ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্য দিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন সংশ্লিষ্ট অনিয়মের সাথে সংশ্লিষ্টরা, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রথম তদন্ত কমিটির আহবায়ক রামচন্দ্রপুর ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, দরজা ও জানালার উপরের অংশে চিকন বাঁশ পাওয়া গেছে। তবে আর কোথাও চিকন বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে কিনা সেজন্য পুরো ছাদ ভেঙ্গে দেখতে সুপারিশ করা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ওই ঠিকাদার মেঘডুমুরসহ মোট আটটি বিদ্যালয়ের কাজ পেয়েছেন। চিকন বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তার আটটি বিদ্যালয়েই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটির রির্পোট পাওয়ার পর এ ব্যাপারে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে দায়িত্বরত প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কেন এখনও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া নাই। এমন প্রশ্নের জবাব নির্বাহী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম চৌধুরী এড়িয়ে গিয়ে বিষয় আমরা আরও খতিয়ে দেখছি।
আরও পড়ুন—
তনুর ভাইয়ের বন্ধুসহ নিখোঁজ চারজনের সন্ধান চায় পরিবার
সাত ঘণ্টায় রাজধানীতে ১১ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু
‘৭ শতাংশ শিশু গৃহশ্রমিক ধর্ষণের শিকার’
গাইবান্ধা জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ জানান, জেলার সাত উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২৭৬টি ওয়াশব্লক নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। প্রতিটি ওয়াশ ব্লক নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এসব ওয়াশব্লক নির্মাণে ঠিকাদার ও প্রকৌশলী সিন্ডিকেড দরপত্র আহবান থেকে শুরু করে নির্মাণকাজে দুর্নীতির আশ্রয় নেন। গোপন দরপত্র ও নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। কিন্তু ওই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে ও ভয়ভীতির কারণে তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারেননি।
প্রসঙ্গত, গাইবান্ধা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়নে ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মেঘডুমুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শৌচাগার (ওয়াশব্লক) নির্মাণকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় আট লাখ ৫০ হাজার টাকা। গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ঠিকাদার আব্দুল খালেক ওই নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান।
/এইচকে/








