দিনাজপুরের হিলিতে টাকা নিয়ে আসার কথা বলে থানার সামনে রাস্তার পাশে মিমি ও জান্নাতি নামে দুই মেয়েকে বসিয়ে রেখে নিখোঁজ হয়েছেন এক মা। কয়েক ঘণ্টা পরও ফিরে না আসায় রাস্তার পাশে বসে মা-মা বলে কাঁদতে শুরু করে তারা। তাদের কান্নায় চার পাশে মানুষজন জড়ো হন। খবর পেয়ে আসে পুলিশও।
রবিবার (১৯ জুলাই) দুপুরে হিলি স্থলবন্দরের চার নম্বর গেটের সামনে থানা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখে পুলিশকে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশু দুটিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তারা পুলিশের হেফাজতে আছে।
এর মধ্যে মিমির বয়স সাত বছর এবং জান্নাতির তিন বছর। মিমি জানায়, ‘টাকা নিয়ে আসছি বলে আমার আম্মু আমাদের এখানে বসিয়ে রেখে চলে গেছে। সকালে আমাদের এখানে রেখে যায়। দুপুর পর্যন্ত মা আর আসেনি। এখন আমরা আমাদের মায়ের কাছে যাবো। আমাদের বাবার নাম জীবন, মায়ের নাম শাহনাজ।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘রাস্তার পাশে একটি ভবনের বারান্দায় দুটি বাচ্চা সকাল থেকেই বসেছিল। তাদের মা পাঁচ ঘণ্টা আগে তাদের ফেলে রেখে চলে গেছে। বাচ্চা দুটিকে দেখে খুব খারাপ লাগলো। আমরা তাদের খাবার কিনে দিলাম। কিন্তু তারা খাওয়া-দাওয়া করছে না। মা-মা বলে কাঁদছে। যেহেতু সীমান্ত এলাকা। তাই আমরা কিছু বুঝতে না পেরে থানায় খবর দিলাম। পুলিশ এসে তাদের থানায় নিয়ে গেছে। এখন পুলিশের হেফাজতে আছে। আমরা চাই বাচ্চা দুটো তাদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাক।’
স্থানীয় বাসিন্দা জোসনা বেগম বলেন, ‘আমি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। তখন দেখছি দুটি শিশু মা-মা বলে কান্না করছে। আমি তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, তোমার আম্মু কই, তখন বলে বাসে চড়ে ওই দিকে চলে গেছে। তোমাদের নিয়ে যায়নি কেন, আব্বুর সঙ্গে ঝগড়া হইছে মায়ের। এজন্য রেখে গেছে।’
এ বিষয়ে হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে সংবাদ আসে যে রাস্তার পাশে বসে দুইটা বাচ্চা কান্না করতেছে। সংবাদ পাওয়ার পর আমার টহল টিমকে সেখানে পাঠাই। শিশু দুটির পরিবারের কাউকে না পাওয়ায় থানায় নিয়ে আসি। পরবর্তীতে জানতে পারলাম তাদের বাবা মাদকাসক্ত, সে বাড়িতে থাকে না, চলে গেছে অন্যত্র। এখন তিন বাচ্চা নিয়ে মা সংসার চালাতে পারতেছে না। তাই রাস্তার পাশে রেখে চলে গেছে। আমরা চেষ্টা করছি বাচ্চা দুইটাকে নানা অথবা দাদার বাড়ির কারও কাছে বুঝিয়ে দিতে। এটা মানবিক বিষয়। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি তাদের স্বজনদের খুঁজে বের করার।’









