স্বপ্নের আরও একটি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার মঞ্চ তৈরিই ছিল। কিন্তু অতি-রক্ষণাত্মক কৌশল এবং ভুল সিদ্ধান্তের খেসারত দিয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বমঞ্চের ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো আর্জেন্টিনাকে। পুরো ম্যাচে স্পেনের তীব্র আক্রমণের সামনে লড়াই করলেও শেষ পর্যন্ত কোচ লিওনেল স্কালোনির কিছু ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই ম্যাচটি হাতছাড়া হয়েছে বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
টাইব্রেকারের আত্মঘাতী অপেক্ষা ও রক্ষণাত্মক মনোভাব
ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার খেলার ধরনে মনে হচ্ছিল তারা কেবল গোল হজম না করে ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিয়ে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে শুধু রক্ষণভাগ দিয়ে পুরো ১২০ মিনিট একটি শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা যে কতটা কঠিন, তা স্কালোনি বুঝতে ভুল করেছেন। এভাবে আক্রমণ বাদ দিয়ে কেবল ডিফেন্ড করে ম্যাচ জেতা অসম্ভব। বল পজিশন স্পেনের পায়ে ছেড়ে দিয়ে আর্জেন্টিনা যেন নিজেদের বিপদ নিজেই ডেকে এনেছিল।
স্ট্রাইকার তুলে ডিফেন্ডার নামানোর খেসারত
ম্যাচের তখন ১০২ মিনিট। যখন প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপ বজায় রাখা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, ঠিক তখনই সবাইকে অবাক করে দিয়ে মাঠ থেকে তারকা স্ট্রাইকার হুলিয়ান আলভারেজকে তুলে নেন স্কালোনি। সবাই যখন বেঞ্চে থাকা নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজের মাঠে নামার অপেক্ষা করছিলেন, তখন নামানো হলো ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসিকে।
আলভারেজ উঠে যাওয়ার পর মাঠে বস্তুত আর্জেন্টিনা দলের আর কোনও প্রকৃত স্ট্রাইকারই ছিল না। আর্জেন্টিনাকে ভুলের মাশুল গুনতে হয় ঠিক ৪ মিনিট পর ম্যাচের ১০৬ মিনিটে। স্পেনের গোল হজম করার পর গোল পরিশোধ করার জন্য আর্জেন্টিনা দলের কোনও ধারালো আক্রমণাত্মক অস্ত্রই আর মাঠে অবশিষ্ট ছিল না।
ভুল বদলি এবং নতুনদের সুযোগ না দেওয়া
আজকের হাইভোল্টেজ ফাইনালে স্কালোনি দলে মোট ৬টি পরিবর্তন আনেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এই ৬টির মধ্যে ৪ জনই ছিলেন ডিফেন্ডার! আক্রমণভাগে গতি ফেরানোর বদলে বাকি যে দুজনকে নামানো হয়, তারা হলেন লেয়ান্দ্রো পারেদেস এবং জিওভানি সিমিওনে।
দল যখন গোল করার জন্য ব্যাকুল, তখন আক্রমণে নতুন কোনও বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করেননি স্কালোনি। ডাগআউটে থাকা ক্ষুরধার ও আক্রমণাত্মক তরুণ খেলোয়াড়দের ট্রাই না করে এবং নতুনদের সুযোগ না দিয়ে অতি-রক্ষণাত্মক মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি, যা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি স্পেনের হাতে তুলে দেয়।
কার্ড খাওয়া খেলোয়াড়দের মাঠে রাখা এবং লাল কার্ডের বিপর্যয়
স্পেনের গতিশীল ফুটবলারদের রুখতে গিয়ে আর্জেন্টিনার একাধিক খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখে ঝুঁকিতে ছিলেন। কিন্তু স্কালোনি তাদের বদলি করার কোনও প্রয়োজন বোধ করেননি।
ফলস্বরূপ, কার্ড খাওয়া এনজো ফার্নান্দেস দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা স্পেনের ওপর আর কোনও পাল্টা চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি, বরং শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত ব্যাকফুটে থেকেই বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন জলাঞ্জলি দেয়।
টাইব্রেকারের ফাঁকা আশা, স্ট্রাইকারবিহীন শেষ মুহূর্ত এবং খেলোয়াড় বদলি নিয়ে স্কালোনির এই চরম ভুল ট্যাকটিকসই মূলত আর্জেন্টিনার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিলো।








