রংপুরে ৪ খুন: পুলিশের দাবি ডাকাতি, স্বজনরা বলছেন বাড়ি করার সময় চাঁদা চেয়েছিল

রংপুর প্রতিনিধি
২৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫০আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৩:০৭

রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েলসহ একই পরিবারের চার জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ডাকাতির সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে নিহতদের পরিবারের দাবি, এটি ডাকাতির ঘটনা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাড়ি নির্মাণকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির বিরোধও ছিল বলে দাবি করেছেন নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্বজনরা।

শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ির ছাদ, চিলেকোঠা ও ঘর থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

গণপতি চক্রবর্তী গত ডিসেম্বরে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দিতেন। স্বজনরা জানান, দুই দিন ধরে পরিবারের চার সদস্যের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে তারা বাড়িতে এসে মূল ফটকে তালা ঝুলতে এবং পুরো বাড়ি অন্ধকার দেখতে পান। পরে বাড়িতে ঢুকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেখতে পান তারা।

রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাড়িটির বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। পারিপার্শ্বিকতা ও ভেতরের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে আমার মনে হয়েছে, এটি ডাকাতির ঘটনা হতে পারে। যেসব আসবাব ও জায়গায় সাধারণত টাকা-পয়সা বা গয়না রাখা হয়, সেগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। তবে তদন্ত না করে এখনই চূড়ান্তভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

তবে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী দাবি করেন, বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদার টাকা নিয়ে একটি ঝামেলা হয়েছিল। তার ধারণা, সেই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।

গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘বাড়ি করার সময় চাঁদার টাকা নিয়ে একটা ঝামেলা ছিল। এরপর তারা বাড়িতে বসবাস করছিলেন। বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে ঘটনাটিকে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই।’

তিনি জানান, গণপতির শ্যালকের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন, পরিবারের চার সদস্যের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। এ ছাড়া বাড়ির মূল ফটকে তালা ঝুলছিল এবং ভেতরে ছিল অন্ধকার। পরে স্থানীয় এক যুবককে বাড়িতে খোঁজ নিতে পাঠানো হয়। তবে তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।

সরেজমিনে মাছুয়াপাড়া এলাকায় দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি ঘিরে রেখেছে পুলিশ। বাড়ির নিচতলায় কাজ চলছিল। ওপরের তলার নির্মাণকাজ শেষ করে সেখানেই পরিবারটি বসবাস করতো। চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়ির সামনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয়দের ভিড় দেখা যায়।

পাশের বাড়ির গৃহবধূ সোনালী দাস বলেন, ‘খুব ভালো পরিবার ছিল। সবার সঙ্গে মিশতো, কথা বলতো। কারা যে তাদের এমন নৃশংসভাবে হত্যা করলো, জানি না। পরিবারে শত্রুতা ছিল, নাকি বাইরের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল, তা তদন্তেই জানা যাবে।’

রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে জেলা স্কুলসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

/এএম/আইএএম/
সম্পর্কিত
গৃহপরিচারিকা মীম হত্যা: স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজন কারাগারে
মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা
ধানমন্ডিতে অর্ণবের রহস্যজনক মৃত্যু: তিন মাসেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পায়নি পুলিশ
সর্বশেষ খবর
অপ্রিয় হওয়ার সাহসিকতা ।। ইচিরো কিশিমি এবং ফুমিটাকি কোগা
ধারাবাহিক উপন্যাস।। পর্ব—৩অপ্রিয় হওয়ার সাহসিকতা ।। ইচিরো কিশিমি এবং ফুমিটাকি কোগা
মুখোশ পরে বাজারে এলোপাতাড়ি গুলি, শিক্ষকসহ ৩ জন আহত
মুখোশ পরে বাজারে এলোপাতাড়ি গুলি, শিক্ষকসহ ৩ জন আহত
বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু
বঙ্গভবনে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির কার্যক্রম শুরু
হুমকির পর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, তদন্তে সিটিটিসি
হুমকির পর কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদার, তদন্তে সিটিটিসি
সর্বাধিক পঠিত
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
নতুন দায়িত্বে চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
মাছ কেটে স্বাবলম্বী তারা 
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
সুখবর পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুলিভান, শাস্তি পেলেন মেসি 
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর
৪০ ক্যামেরা বসিয়েও খোঁজ মেলেনি সুন্দরবনের সেই বাঘিনীর