সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন মাংসের দোকানে বৃহস্পতিবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এসময় স্বপ্নসহ বিভিন্ন মাংসের দোকানকে মাংস বিক্রির লাইসেন্স না থাকা ও ডাক্তারি পরীক্ষা ছাড়া বিক্রি এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে জরিমানা করা হয়েছে।
পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ এর অধীনে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মো. শরীফুজ্জামানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বিশেষজ্ঞ মতামত ও প্রাথমিক পরীক্ষার জন্য উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি অফিসার ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বেলা ১১টায় সিলেট মহানগরীর পূর্ব জিন্দাবাজার বারুতখানার ‘স্বপ্নে’ অভিযানকালে দেখা যায় সেখানে বিক্রির জন্য রাখা মাংসে কোনও সিল নেই, ডাক্তার দ্বারাও তা পরীক্ষিত না।
এসময় ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম বিক্রির জন্য রাখা গরুর কলিজা প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেন তা খাবার অনুপোযোগী। পরে তা জব্ধ করে স্থানীয় ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন:
রাজশাহীতে মাদক মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন
এসময় স্বপ্নের বারুতখানা শাখার ম্যানেজার সুলতানা বেগম মাংস বিক্রির কোনও লাইসেন্স দেখাতে পারেননি।তিনি জানান, বন্দরবাজার সংলগ্ন সন্ধ্যাবাজারের ভাই ভাই মাংসের দোকান থেকে স্বপ্নে মাংস সরবরাহ করা হয়।এই মাংস ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষিত কিনা তা তাদের জানা নেই। পরে বারুতখানা স্বপ্নকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরবর্তীতে মোবাইল কোর্ট সন্ধ্যা বাজারে ভাই ভাই মাংসের দোকানে গিয়ে স্বপ্নের স্লিপ দেখালে তারা স্বীকার করেন, স্বপ্নে সরবরাহকৃত মাংস ডাক্তার দ্বারা পরীক্ষা করা হয়নি বা কোনও সিলও দেওয়া হয়নি। তাদের দোকানের কোনও লাইসেন্সও নেই। এসময় মোবাইল কোর্ট ভাই ভাই মাংসের দোকান কর্তৃপক্ষকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
পরে মোবাইল কোর্ট শিবগঞ্জের বংগাই মিয়ার মাংসের দোকানে অভিযান চালায়। সেখানে গিয়ে মাংস ও কলিজা পরীক্ষা করার পর ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম নিশ্চিত হন সেখানে বিক্রির জন্য রাখা গরুর মাংস ও কলিজা লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত গরুর।
এ সময় বংগাই মিয়ার মাংসের দোকান কর্তৃপক্ষ বলেন, ‘এগুলো হোটেলে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছে।’
ডাক্তার মোহাম্মদ মাহবুব আলম মাংস ও কলিজা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য জব্দ করেন। পরে তা স্থানীয় ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়। এ সময় বংগাই মিয়ার মাংসের দোকান কর্তৃপক্ষকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এই ব্যাপারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকারী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরীফুজ্জামান জানান, খাবারের মান নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ এর অধীনে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখন থেকে নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অভিযানকালে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ফোর্স এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:
নরসিংদীর দুই পৌরসভায় মনোনয়নপত্র জমাদান সম্পন্ন
/জেবি/টিএন/আপ-এআর/








