সিলেটে এক কিশোরীকে জোর করে বিয়ের অভিযোগে এক যুবক ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। সোমবার রাতে নগরীর ইসলামপুর মেজরটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এই সময় নির্যাতিতা কিশোরীকে (১৫) উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব-৯ পরিচালিত ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিপিসি-১,সিলেট ক্যাম্পের মেজর এস এ এম ফখরুল ইসলাম খান।
আটককৃতরা হলেন, বরবেশী যুবক মামুন, কিশোরগঞ্জ জেলার কালিয়াঝুরি থানার ধনপুর পাচহাই গ্রামের বর্তমানে মেজর টিলার মিস্তিক কলোনির বাসিন্দা মোছাম্মৎ নূরুন্নাহার (৩০) ও নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার হালেঙ্গা পুতিগাঁও গ্রামের রহিমা বেগম (৫০)।
র্যাব-৯ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরতলীর ইসলামপুর মেজরটিলা এলাকায় অভিযান চালায় র্যাব। অভিযানকালে বাজারের পাশে জনৈক ইসতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীর মালিকানাধীন কলোনি থেকে ভুয়া বরসহ তার কথিত দুই খালাকে গ্রেফতার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রায় দুই বছর আগে জীবিকার তাগিদে গৃহকর্মী হিসেবে সিলেটে কাজ করতে আসে ভিকটিম ওই কিশোরী। ইসলামপুরে এক বাসায় কাজ করার সময় তার সঙ্গে নুরুন্নাহারের পরিচয় হয়। এরপর থেকে ভিকটিম গত ৩/৪ মাস ধরে তার সঙ্গে একই ঘরে ভাড়া থাকছে। মামুন সেখানে কিশোরীটিকে দেখতে পেয়ে তাকে বিয়ের নামে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ফাঁদ পাতে। এরপর রহিমা বেগম ও নুরুন্নাহারের সহযোগিতায় বিয়ের সাজানো নাটক করে। গত ২৮মে কোনও রকম ধর্মীয় বা সামাজিক অনুশাসন না মেনে জোর করেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক কিশোরীটিকে বিয়ে করে মামুন। কিন্তু এসময় মামুনের পরিবারের কোনও প্রতিনিধি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। আর বিয়ে পড়ানোর জন্য যাকে মৌলভী পরিচয়ে সেখানে হাজির করানো হয় অভিযোগ রয়েছে তিনিও মৌলভী নন। র্যাবের অভিযানের খবর পেয়ে তিনিও পালিয়ে গেছেন।
এদিকে, মেয়েটির অমতে জোর করে বিয়ে দেওয়ার পর তাকে পরপর দুইদিন মামুনের সঙ্গে এক ঘরে থাকতে বাধ্য করেন কথিত খালা নুরুন্নাহার ও রহিমা বেগম। এসব নিয়ে আপত্তি জানালে ২৯ মে রাতে আসামি মামুন তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়।
প্রতিবেশদের কাছে এ সংবাদ পেয়ে র্যাবের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং কথিত দুই খালাকে আটক করে। পরে ভুয়া বর মামুনকেও আটক করা হয়।
এ ঘটনায় ওই কিশোরী লিখিত অভিযোগ দেওয়ায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের শাহপরান থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: রংপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
/জেবি/আপ-এআর/







