গাছ চোরদের থাবায় বিপন্ন লাউয়াছড়া!

সাইফুল ইসলাম, মৌলভীবাজার
২৪ জুন ২০১৬, ১৫:০৮আপডেট : ২৪ জুন ২০১৬, ১৫:০৮

গাছ চুরিতে উজার হচ্ছে লাউয়াছড়া গাছ চোর চক্রের থাবায় বিপন্ন হতে চলছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। উদ্যানের বিভিন্ন টিলা থেকে অবাধে সেগুন, চাপালিশ, আওয়াল, গর্জনসহ মূল্যবান গাছ কেটে পাচার করছে সংঘবদ্ধ গাছ চোর চক্র। গাছ-গাছালি কমে যাওয়ায় খাদ্য সংকটে পড়ে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। বন্যপ্রাণীর বাসস্থান ও খাদ্য সংকট তীব্র হচ্ছে, এমনকি জীবনও বিপন্ন হয়ে উঠছে।

এদিকে, লাউয়াছড়ার দুটি পানপুঞ্জিতে বসবাসরত আধিবাসী খাসিয়ারা পান চাষের নামে গাছের ডালপালা কেটে ফেলছে। এতে বনের পরিবেশ ও প্রতিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব দেখা দিয়েছে।

গত ১৩ জুন রাতে ট্রাকে করে উদ্যানের বনবিট অফিসের পাশের উঁচু টিলা থেকে কেটে নেওয়া হয়েছে বিশালাকৃতির দুটি আওয়াল গাছ।

উদ্যান দেখভালের দায়িত্বের নামে আছে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি। কিন্তু তারাও রক্ষা করতে পারছেন বনের প্রাণ এসব গাছগুলোকে।

সরেজমিনে লাউয়াছড়া ঘুরে দেখা যায়, লাউয়াছড়া বনবিট অফিসের পেছনে প্রায় দেড় হাজার গজের মধ্যে উঁচু টিলার গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এরআগে বড় বড় গাছের গুঁড়ি কালের সাক্ষী হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মঙ্গলবার রাতেই ওই টিলা থেকে বিশালাকৃতির দুটি আওয়াল গাছ কেটে ট্রাকে করে নিয়ে যায় গাছ চোর চক্র।

লাউয়াছড়া পানপুঞ্জির শ্রমিক আজিত মিয়া জানান, আগে এখানে হাজার হাজার সেগুন, চাপালিশ, আওয়াল, গর্জনসহ মূল্যবান নানা জাতের গাছ ছিল। এখন এ বনে নামমাত্র কিছু সেগুন গাছ অবশিষ্ট আছে,  বাকি গাছগুলো কেটে নিয়ে যাচ্ছে গাছ চোররা। তারা গাছ কেটে ট্রাকে ও রেলপথে নিজস্ব ট্রলি ব্যবহার করেও পাচার করে থাকে।

বনকর্মীরাও এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিশাল আয়তনের এ বনে হাতেগোনা চার/পাঁচজন বনকর্মীকে দিয়ে পুরনো আমলের বিকল বন্দুক দিয়ে সশস্ত্র শতাধিক গাছ চোরকে প্রতিহত করা সম্ভব নয়। উল্টো গাছ চুরি প্রতিরোধে গেলে সশস্ত্র গাছ চোর চক্রের হামলার শিকার হতে হয়।

স্থানীয়রা জানায়, জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে বন ও বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য। এ কমিটির অধিকাংশ সদস্য কোনও না কোনও ভাবে গাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এছাড়া বন পাহারার জন্য পাহারাদার দল (সিপিজি) রয়েছে। তারা রাতে পাহারা দিলেও গাছ ঠিকই চুরি হচ্ছে। পাহারাদার দলের অনেক সদস্যই গাছ চুরির সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

প্রসঙ্গত, গত বছর গাছ চুরির সঙ্গে যুক্ত থাকার অপরাধে সিপিজি-র সদস্য লংগুরপার গ্রামের বাবুল মিয়ার নেতৃত্বে ৬ সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সম্প্রতি বিশেষ সুপারিশে আবারও বহিষ্কৃত এই ৬ সদস্যকে পাহারাদার দলে যুক্ত করা হয়েছে। লাউয়াছড়া

দিনে দিনে গাছ কমে যাওয়ায় লাউয়াছড়া বন্যপ্রাণী বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, এখানে বন্যপ্রাণীর খাদ্য ঘাটতি রয়েছে প্রচুর। ফলে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে গিয়ে প্রাণ হারাচ্ছে বন্যপ্রাণী। বর্তমানে লাউয়াছড়া বনকে বাণিজ্যিক প্রক্রিয়ায় লণ্ডভণ্ড করে ফেলা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত পর্যটকরা ভ্রমণে আসছে। অধিক পর্যটক, মাইক আর যানবাহনের উচ্চ শব্দ সব মিলিয়ে আগের মতো জীবজন্তু ও পশুপাখির দেখা পাচ্ছে না পর্যটকরা।

লাউয়াছড়া বনবিট কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) রেজাউল করিম বলেন, স্বল্প জনবল নিয়েই তারা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পর্যাপ্ত লোকবল, অস্ত্রশস্ত্র ও যানবাহন সুবিধাসহ পর্যটক হ্রাস এবং বন্যপ্রাণির খাবারের ব্যবস্থা করা গেলে এখানে তেমন কোনও সমস্যা থাকবে না।

তবে গাছ চুরি কমে গেছে দাবি করে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (বন্যপ্রাণী) মিহির কুমার দো বলেন, এ বনের একাংশে সামাজিক বনায়নের গাছ নিলামে বিক্রি হয়েছে। এসব গাছ পরিবহনে দেখলে মনে হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ পাচার হচ্ছে।

১৩ জুন গাছ চুরির বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নিয়মিত তদারকি করছেন। ইতোমধ্যে বেশকিছু চোরাই গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনাটিও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখছেন।

এ ব্যাপারে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোসাদ্দেক আহমদের সঙ্গে চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুন- 

ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ পরিবর্তন
ফতোয়া স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে: জুনায়েদ বাবুনগরী

/বিটি/এফএস/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
টিভিতে আজকের খেলা ( ৪ জুন, ২০২৬)
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম