সিলেট নগরীর কাজলশাহ যুগলটিলায় ইসকন মন্দিরে হামলার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা সহস্রাধিক মুসল্লিকে আসামি করে শনিবার রাতে মামলাটি করেছেন ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ নবদীপ দ্বীজ গৌরাঙ্গ ব্রক্ষচারী।
এদিকে, এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ফজলে আজিম পাটোয়ারি জানান, ইসকনের এজাহারটি শনিবার রাতেই মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে এবং ইসকনের দুটি গেটেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মামলার বাদী ইসকন সিলেটের অধ্যক্ষ নব দীপ দ্বীজ গৌরাঙ্গ ব্রক্ষচারী জানান,হামলাকারীদের ছেড়ে দেওয়ার কারণে তারা মামলা করেছেন।
তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে ৩৪ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের নাম মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে প্রায় সহস্রাধিক ব্যক্তিকে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির প্রধান তাদের কাছ থেকে এরইমধ্যে ভিডিও ফুটেজ দিয়েছেন। ইসকনে আগে চারজন পুলিশ সার্বক্ষনিক মোতায়েন থাকতো। শুক্রবারের ঘটনার পর আরও দুজন পুলিশ সদস্য বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে, তদন্ত কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) রহমত উল্যাহ।
গত শুক্রবার (২ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ চলাকালে কাজলশাহ মধু শহীদ জামে মসজিদের বিপরীতে ইসকন মন্দিরে ‘ভক্তবেদান্ত ন্যাশনাল স্টুডেন্টস কম্পিটিশন’ এর বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চলছিল। মন্দিরের ভেতর থেকে তখন গান-বাজনা ও বাদ্যযন্ত্রের আওয়াজে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মুসল্লিরা। জুম্মার নামাজের পর মসজিদের মুসল্লিরা ইসকনের দায়িত্বরতদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মহিলা কাউন্সিলর জেবুন্নাহার শিরিনসহ ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ইসকন মন্দিরে হামলার ঘটনায় মামলা নিচ্ছে না পুলিশ
/বিটি/








