সিলেট সিটি করপোরেশনসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের ভোট সংখ্যা ১ হাজার ৪৬৪টি। সিলেটের বিভিন্ন উপজেলা,পৌরসভা, ইউনিয়ন ও সিটি করপোরেশনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত জনপ্রতিনিধির সংখ্যাই বেশি। এসব ভোটের মধ্যে অধিকাংশ ভোটারই বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার। আর এ সুযোগ এবারের নির্বাচনে কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহীরা বিএনপিকে এ সুযোগ করে দেওয়ায় তা হাতছাড়া করতে নারাজ দলটি। আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীকে ঠেকাতে কৌশলে মাঠে নেমেছেন সিলেট বিএনপির নেতারা। যে কারণে অনেকটাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান।
সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, নির্বাচনে সিলেটে মোট ভোটার সংখ্যা ১ হাজার ৪৬৪টি। এরই মধ্যে বিএনপি সমর্থিত জোটের রয়েছেন প্রায় ৭শ’ ভোটার। সেইসব ভোটার দিয়েই নির্বাচনে বিএনপি চমক দেখাতে পারবে। এছাড়াও দলের হয়ে অনেকেই জেলা পরিষদের সদস্য পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন বলে খবর পেয়েছি। তাদেরকে দল কোনওভাবেই সমর্থন করবে না। কারণ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার কেন্দ্রীয় নির্দেশ রয়েছে।
নির্বাচন মানেই প্রতিযোগিতা, চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা বেশী থাকলে সে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য আর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে জানিয়ে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি শফিকুর রহমান চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সিলেটে আওয়ামী লীগের রয়েছে বিশাল ভোট ব্যাংক। তবে আওয়ামী লীগের কতজন ভোটার রয়েছে জানতে চাইলে, তা জানাতে পারেননি তিনি। তিনি আরও জানান, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে গণজোয়ারের সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা যায়, সিটি করপোরেশনের অধিকাংশ কাউন্সিলর বিএনপি ও জামায়াতপন্থি। এছাড়াও গোয়াইনঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম, জকিগঞ্জ উপজেলার চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ তাপাদার, বালাগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান আবদাল মিয়া, বিশ্বনাথ উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল আহমদ চৌধুরী বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। গোলাপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমুল হোসেন ও জৈন্তাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। গোলাপগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি বিএনপি, ১টি জামায়াত ও ৪টিতে আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। এ ছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলার ৬ ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি বিএনপি ও তিনটিতে আওয়ামী লীগের জনপ্রতিনিধি রয়েছেন। একইভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার ৯ ইউপির মধ্যে ৪টি বিএনপি ও ৫টি আওয়ামী লীগের। এভাবে সিলেট জেলার ১৩ উপজেলার সবক'টিতেই রয়েছে বিএনপি ও জামায়াতের ভোট।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রে জানা যায়, জেলা পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তার মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আর সজ্জন মানুষ হয় না। তিনি সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত জোট থেকে কয়েকজন নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছে নেতাকর্মীদের। তবুও জয়ের ব্যাপারে আমরা শতভাগ আশাবাদী। জেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই প্রচার চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফুর রহমান, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউদ্দিন লালা, ইমরান আহমদ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এনামুল হক সরদার এবং যুক্তরাজ্য প্রবাসী জাপা নেতা ফখরুল ইসলাম। তফসিল ঘোষণার পর সিলেট আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ কয়েকদফায় চেয়ারম্যান প্রার্থী লালা ও এনামুল হকের সঙ্গে বৈঠক করেও লাভ হয়নি।
/এইচকে/







