শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস খুলে দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের টানা ২৪ ঘণ্টা আন্দোলনের মুখে অবশেষে দাবি মেনে নিয়েছে জরুরি সিন্ডিকেট।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্তে আজ থেকেই সব ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ২৫ ডিসেম্বর থেকে কেবলমাত্র আবাসিক ছাত্র হলগুলোতে বৈধ শিক্ষার্থীরা উঠতে পারবেন বলে জানান সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. কবির হোসেন।
এদিকে সিদ্ধান্ত জানার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল বের করেন। পরে তারা ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন।
আন্দোলনের অধিকাংশ সময় শাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আমিনুল হক ভূইয়ার অফিস কার্যালয়ের সামনে অবস্থান করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে উপাচার্য আমিনুল হক তার নিজ কার্যালয়ে টানা ২২ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী জানান, তাদের একটাই দাবি ছিল ‘প্রাণের ক্যাম্পাস খোলা রাখতে হবে’। আর এ দাবি মেনে নেওয়ায় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সারোয়ার তুষার, দীপাঙ্কর কপিল দে ও কাসিব মুন্নাসহ প্রমুখ।
জালালাবাদ থানার ওসি আখতার হোসেন জানান, যেকোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর) শাবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ধাওয়া ও হল দখলের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর শাবি প্রশাসনের লিখিত চিঠির অনুরোধে রাত ১২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত হলগুলোতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ইমরান খানের সমর্থিত কর্মীরা প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়াই হলে প্রবেশ করে। একই সময় অন্য গ্রুপগুলোর নেতাকর্মীরাও হলে অবস্থান করছিলেন। এতে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সকালে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয়। রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের ক্লাস পরীক্ষা ও হল বন্ধ ১ জানুয়ারির কথা বলা হলেও পরে জরুরি সিন্ডিকেট সভায় তা ৬ জানুয়ারি করা হয়। অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস ও সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা থাকায় এতে অসুবিধায় পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এর পরেই আন্দোলনে নামেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
/এআর/







