মৌলভীবাজারের জুড়ীতে একটি পরিবারকে এক ঘরে করে রাখা নিয়ে ‘জুরীতে ১০ বছর একঘরে’ শিরোনামে বাংলা ট্রিবিউনে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জুড়ী থানার ওসি মো. জালাল উদ্দিন।
গত ৩১ মে মৌলভীবাজারের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম আল মাসুদ জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এ আদেশনামা (পিটিশন ১৯৯/২০১৭)পাঠান।
স্থানীয়রা জানান, ফাতির আলীর সঙ্গে ৮ শতক জায়গা নিয়ে তার ভাই শরাফত আলীর বিরোধ ছিল। ২০০৭ সালের দিকে এক আত্মীয়ের মধ্যস্থতায় বিরোধপূর্ণ জায়গায় ফাতির আলী ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করেন। এরপর শরাফত বাঁশের বেড়া দিয়ে ওই জায়গা দখলের চেষ্টা চালান। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন সালিশ বৈঠক ডেকে বিরোধ মেটানোর উদ্যোগ নেন। সালিশে স্থানীয় মাতব্বর আপ্তাব আলী, উস্তার আলী, আবদুল লতিফ ও ছমির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ফাতির সালিশকারীদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে চলে যান। পরে তিনি জুড়ী থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে সালিশকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও বৈঠক ডেকে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা নিয়ে ফাতিরের কাছে কৈফিয়ত চান। একপর্যায়ে তারা ফাতিরকে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেন। ৭-৮ বছর আগে সেটেলমেন্ট জরিপের সময় ফাতির ও শরাফতের মধ্যে জমিসংক্রান্ত বিরোধ মিটমাট হয়ে যায়। কিন্তু স্থানীয় মাতব্বররা ফাতির আলীর পরিবারকে এখনও একঘরে করে রেখেছেন।
এ নিয়ে গত ২৮ মে বাংলা ট্রিবিউনে ‘জুড়ীতে ১০ বছর একঘরে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদের প্রকাশের পর আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে আদেশনামা পাঠান। আদেশনামায় প্রকাশিত সংবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে আদালত বলেন,‘রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের যে কোনো অভিযোগ নিয়ে থানা বা আদালতে আশ্রয় নেওয়ার সমান অধিকার আছে। প্রজাতন্ত্রের কোনও নাগরিক থানা বা আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার কারণে সালিশ ডেকে একঘরে করে রাখা বা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার সিদ্ধান্ত দেশের আইনের শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ।
আদালত বলেন, মসজিদ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সব নাগরিকের সমান প্রবেশাধিকার রয়েছে। সংবিধানের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রত্যেক নাগরিকের বাংলাদেশের সর্বত্র অবাধে চলাফেরা করার অধিকারের কথা উল্লেখ আছে।
আদালত আরও বলেন, ‘সংবাদে এটাই প্রমাণিত যে ওই বৈঠকের সালিশকারীরা ফাতির আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য সমাজে বসবাসরত বিভিন্ন স্তরের জনগণের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়েছে, যাতে ওই পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে জনমনে বিদ্বেষ জন্ম নেয়। এভাবে জনমনে বিদ্বেষ ছড়িয়ে একঘরে করে রাখার যে প্রয়াস তা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের জন্য মানহানিকরও বটে।’ ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
জুড়ী থানার ওসি মো. জালাল উদ্দিন সোমবার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আদেশনামা পাওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়েছে। নির্ধারিত তারিখের মধ্যেই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: পশুর নদীতে কার্গোডুবি: এখনও শুরু হয়নি উদ্ধার কাজ








